চুল ঘন করার উপায়

নারী এবং পুরুষ উভয়ের সৌন্দর্যের প্রতীক হলো চুল। মাথায় পর্যাপ্ত চুল না থাকলে কেমন লাগবে ভাবুন তো? আসলেই খুবই খারাপ লাগবে। কারণ আপনি যত সুন্দর হন না কেন আপনার যদি ঘন কালো চুল না থাকে তাহলেই সব শেষ। সৌন্দর্যের ব্যাঘাত ঘটাতে এই একটা কারণেই যথেষ্ট।


বর্তমানে চুল পড়ে যাওয়াটা খুবই সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন দিন চুল পড়ে পাতলা হয়ে যাচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজন চুলের বিশেষ যত্ন এবং সেই সাথে পাতলা চুলকে ঘন করার কিছু বিশেষ প্রক্রিয়া।

প্রিয় পাঠক বৃন্দ, আজ আমরা আপনাদের খুবই সাধারণ কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যার সমাধান নিয়ে এসেছি। আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা আপনাদের জানাবো চুল ঘন করার উপায় সম্পর্কে। বিস্তারিত জানতে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন।

পেজ সূচিপত্রঃ

পাতলা চুল ঘন করার উপায় কি?

আমাদের শারীরিক যেমন বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়, ঠিক তেমনি এই প্রভাব আমাদের চুলের উপরে পড়ে থাকে। যার ফলে বিভিন্ন কারণে চুল পাতলা হয়ে যায়। যাদের পাতলা চুল তারা সর্বদাই চিন্তিত কিভাবে চুল ঘন করবে। এতক্ষণে হয়তো আপনারও জানার ইচ্ছা হয়েছে যে পাতলা চুল ঘন করার উপায় কি? এ বিষয়ে আজ আপনাদের জানাতে এসেছি। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক।
  • সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চুলে অয়েল মেসেজ করুন। গোসলের আগে কুসুম গরম তেল দিয়ে মেসেজ করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি বেশি কার্যকর।
  • প্রতিদিন পরিষ্কার চিরুনি দিয়ে চুলগুলোকে আঁচড়িয়ে ফেলুন। এতে করে অবাঞ্ছিত চুল পড়ে মাথার রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকবে।
  • প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ চুলের যত্নের সাথে সাথে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে যা নতুন চুল গজাতে সহায়তা করবে।
  • তেলের সাথে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে মাথায় দিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।
  • মেহেদী পাতা ও ডিম দিয়ে প্যাক তৈরি করে মাথায় দিতে পারেন। শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করে এরপর ধুয়ে ফেলুন। পাতলা চুলকে ঘন করার জন্য এটি খুবই কার্যকর।
  • সারারাত মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে পেস্ট করে মাথায় দিতে পারেন।
  • যে কোন অয়েলের সাথে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

কত বছর পর্যন্ত চুল ঘন হয়?

চুল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আমরা অনেকেই মনে করে থাকি একটু বয়স বেশি হয়ে গেলে আর হয়তো মাথায় নতুন চুল হয় না। এই ধারনাটি কি আদৌ ঠিক? না একদমই নয়। আপনি কি জানেন কত বছর পর্যন্ত চুল ঘন হয়? না জানলে এক্ষুনি জেনে নিন।


একটি শিশু যখন জন্ম নেয় তখন মায়ের পেট থেকে মাথায় চুল নিয়ে পৃথিবীতে আসে। এরপর থেকে প্রতিনিয়তই শিশুর সাথে সাথে চুলেরও বৃদ্ধি ঘটে। যদি চুলের নির্দিষ্ট কোন বয়স থাকতো তাহলে চুল পড়তে পড়তে একসময় মানুষ টাক হয়ে যেত। তাহলে বুঝতেই পারছেন মানুষের মাথায় চুল অনবরত গজাতে থাকে।

এখন কথা হলো কত বছর পর্যন্ত চুল ঘন হয়ে থাকে। এর উত্তর এক কথায় হলো নির্দিষ্ট কোন বছর নেই যে পর্যন্ত চুল স্থায়ী থাকে। কিছু মানুষ রয়েছে যারা অতিরিক্ত চিন্তা গ্রস্ত, চুলের যত্নে অবহেলা করে এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করে না। স্বাভাবিকভাবেই তাদের নতুন চুল গজাবে না যার ফলে চুল ঘন হয় না। আর অন্যদিকে কিছু মানুষ রয়েছে যারা প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাদ্য খায় এবং চুলের বিশেষ যত্ন নেয় এক কথায় সচেতন।বৃদ্ধ বয়সেও এ ধরনের মানুষের নতুন চুল হতেই থাকে। তাই এসব চিন্তা বাদ দিয়ে চুল ঘন করার উপায় সম্পর্কে বিভিন্ন টিপস খুঁজে বের করুন।
আশা করি উত্তরটি পেয়ে গেছেন।

প্রাকৃতিকভাবে নতুন চুল গজানোর উপায় কি?

শুধুমাত্র ভালো হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেই যে চুল ভালো থাকবে বা নতুন চুল গজাবে এমনটি নয়। কারণ, চুল আমাদের শরীরের একটি অংশ। স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার যেমন আমাদের সুস্থ রাখে চুলের ক্ষেত্রেও ভিন্ন কিছু নয়। চুল শরীরের পুষ্টি থেকে বৃদ্ধি পায় এবং স্বাস্থ্যসম্মত থাকে। তাই প্রাকৃতিকভাবে নতুন চুল গজানোর উপায় কি যারা জানতে চায় তাদেরকে এ বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান রাখতে হবে। আপনাদের জানার সুবিধার্থে নিচে উল্লেখ করা হলো-
  1. শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো চুলকে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
  2. আয়রন ও ফ্যাট জাতীয় খাবার দৈনিক খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
  3. প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা থেকে ডিম কোনভাবেই বাদ দেয়া যাবে না। কারণ ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ভিটামিন যা চুলকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
  4. নতুন চুল গজাতে পেঁয়াজের রস অন্যতম ভূমিকা পালন করে। পেঁয়াজ রস করে চুলে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ভালোভাবে শ্যাম্পু করুন। এটি খুবই কার্যকর।
  5. শহর এবং গ্রাম প্রতিটি জায়গায় সকলেই জানে মেহেদী পাতা চুলের জন্য কত উপকারী। তাই ঘন ঘন চুলে মেহেদি দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে লাগাতে পারেন। এটি চুলের গোড়া শক্ত করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
  6. প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খেতে হবে। এগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন যা থেকে চুল বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন গ্রহণ করে থাকে।
  7. দৈনিক বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন। বাদামে থাকা ক্যালসিয়াম চুলের জন্য অনেক উপকারী।

চুল ঘন করার তেলের নাম কি?

চুলের বৃদ্ধি, নতুন চুল গজানো বা চুলকে সুস্থ রাখতে সবকিছুর জন্যই তেলের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ চুলের প্রধান খাদ্য হলো তেল। আমরা যেমন খাবার খাই এবং তার দ্বারা শক্তি পেয়ে সুস্থ থাকি। ঠিক সেভাবেই তেল হল চুলের পুষ্টি এবং চুলকে সুস্থ রাখার প্রধান উপাদান। কিন্তু প্রতিটি তেলই কি চুলের জন্য ভালো? জানা নেই তাই না। কিন্তু এ বিষয়ে জানতে হবে।চুল ঘন করার তেলের নাম কি তা নিম্নরূপ-
  • পেঁয়াজের তেলঃ চুল পড়া রোধে এবং চুলের প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য পেঁয়াজের তেলের কোন জুড়ি নেই। এটি জাদুকরী তেল হিসেবে কাজ করে। খুব অল্প সময়ে ব্যবহারে এর ফল পাওয়া যায়।
  • নারিকেল তেলঃ প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত নারিকেল তেল সবচেয়ে সেরা। চুলকে মসৃণ এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করে।
  • জলপাই তেল বা অলিভ অয়েলঃ অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখে। মাথার ত্বককে ভালো রাখে। নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।
  • কালোজিরার তেলঃ কালোজিরার তেল চুলকে করে অধিক শক্তিশালী যা সহজে ঝরে পড়ে না। চুলের ময়েশ্চারাইজার কে ধরে রাখতে সহায়তা করে। এই তেলটি চুলকে খুব দ্রুত ঘন করে। 
  • ক্যাস্টর অয়েলঃ ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারের ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়। যার কারণে চুল ঘন হয় এবং এই তেলটি চুলকে লম্বা করে।

চুল ঘন করার ঔষধ কোনটি?

যারা চুল ঘন করার ওষুধ সম্পর্কে জানতে চান তাদের উদ্দেশ্যে আজকে এই লেখাটি। চুল ঘন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ঔষধ পাওয়া যায়।সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ঔষধ ব্যবহার না করাই উত্তম। তবে চুল ঘন করার জন্য ডাক্তাররা যে ঔষধ দিয়ে থাকে তার মধ্যে মিনাক্সিডিল ঔষধটি সবচেয়ে ভালো।

তবে এই ওষুধটি পুরুষ এবং নারীর ক্ষেত্রে এক নয়। নারীদের জন্য ব্যবহার করা হয় ২% এবং পুরুষদের জন্য ৫%। এটি চুলের ভারসাম্যকে ঠিক রাখে এবং নতুন চুল গজাতে সহযোগিতা করে। এই ঔষধটি চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়। আমাদের উদ্দেশ্য আপনাদের তথ্য দেয়া তবে নিজের চুলের অবস্থা বুঝে প্রতিটি জিনিস ব্যবহার করার অনুরোধ রইলো।

জেলাটিন দিয়ে চুল ঘন করবেন যেভাবে?

চুল ঘন করার উপায় এর মধ্যে আরেকটি হলো জেলাটিন। এটি কোন অন্য উপাদান নয় বরং বাজারে যেটি জেলি তৈরির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় সেটি। এটিকে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক হেয়ার প্যাক এর সাথে গরম পানির সাথে মিশিয়ে গলিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

অন্যথায় দৈনিক শ্যাম্পুর সাথে মিশিয়েও ব্যবহার করা যাবে। এটি চুলের জন্য অনেক উপকারী। চুলের গোঁড়াকে  শক্ত রাখে এবং চুলকে খুব দ্রুত ঘন করতে সহায়ক।

জবা ফুল দিয়ে চুল ঘন করার উপায় কি?

আমরা সকলেই জানি জবা ফুল চুলের জন্য উপকারী। বেশিরভাগ মানুষই মেহেদি পাতার সাথে জবা ফুল দিয়ে প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করে। তবে এর তেলও তৈরি করা যায় যা খুবই কার্যকর।

নারিকেল তেলের সাথে জবা ফুল জাল করে তা ঠান্ডা হয়ে গেলে ছেঁকে ফেলুন। এরপর একটি পাত্রে ঢেলে রাখুন। এই তেলটি বেশ কিছুদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়।নিয়মিত এই তেলটি ব্যবহার করলে চুলের উজ্জ্বলতা তো বৃদ্ধি পাবেই এবং নতুন চুল গজিয়ে চুল ঘন হবে।

অ্যালোভেরা দিয়ে চুল ঘন করার উপায় কি?

চুল ভালো রাখার ক্ষেত্রে এলোভেরার কোন জুড়ি নেই। আমরা সবাই জানি এলোভেরা দিলে চুল সুন্দর এবং মসৃণ হয়ে থাকে। এর ব্যবহার ও কমবেশি সকলের জানা রয়েছে। এলোভেরার জেল প্রাকৃতিক ভাবে চুলকে ঘন করে এবং যাদের চুল ফেটে যায় তাদের সমস্যার সমাধান হলো এই অ্যালোভেরা। এটি চুল ঘন করতে অন্যান্য ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও এলোভেরা চুলের প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।

কলা দিয়ে চুল ঘন করবেন যেভাবে

আমরা সকলেই জানি কলা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। কিন্তু এ বিষয়টি কি জানা আছে কলা দিয়ে চুল ঘন করা সম্ভব? একটি পাকা কলা চটকে এর মধ্যে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। একটি সম্পূর্ণ চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ফেলুন। এরপর চুল শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু দিয়ে খুব ভালোভাবে চুল পরিষ্কার করে নিন। মুহূর্তেই চুলের পূর্বের এবং বর্তমান অবস্থা বুঝতে পারবেন।

চুল ঘন করার উপায়-শেষ কথা

সৌন্দর্য চায়না এমন কোন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুর্লভ। আর যদি সেটি হয় চুল, তাহলে তো কোন কথাই নেই। কিন্তু অনেক সময় চুল নিয়ে নানা সমস্যায় ভুগতে হয় যেমন-অতিরিক্ত চুল পড়ে যাওয়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর চুল। কিন্তু এর জন্য পর্যাপ্ত কিছু কারণ রয়েছে তা হলো-আমাদের চুলের প্রতি অবহেলা, অযত্ন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং লাইফ স্টাইল। তাই উপরে উল্লেখিত উপায় গুলো অবলম্বন করে আশা করি আপনারা আশানুরূপ ফল পাবেন চুল ঘন করার ক্ষেত্রে।

একটি প্রবাদ রয়েছে যত্ন করলে রত্ন মেলে। এই ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম কিছু নয়। তাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চুলের পর্যাপ্ত যত্ন করুন এবং নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখুন। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিবেন। আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url