কাজা নামাজের নিয়ম ও নিয়ত

মুসলমান ধর্মের অনুসারী প্রতিটি ব্যক্তি এ বিষয়ে অবগত যে মহান আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুসলমানের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ করেছেন। এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এর যে কোন একটি নামাজ যদি ওয়াক্ত থেকে ছুটে যায় অথবা বাদ পড়ে তাহলে সেটিকে কাজা নামাজ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া যেরকম গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক তেমনি ভাবে কাজা নামাজের গুরুত্ব কোন অংশেই কম নয়। তাই আমাদের সকলকে জানতে হবে কাজা নামাজের নিয়ম ও নিয়ত সম্পর্কে। এই কাজা নামাজকে কোনভাবেই বাদ দেয়া যাবে না। আজকের আর্টিকেল দিতে আমরা আপনাদের কাজা নামাজের নিয়ম ও নিয়ত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়ার চেষ্টা করব।

যে সকল বিষয় নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করব তার নিচে উল্লেখ করা হলো।

পেজ সূচিপত্রঃ

কাজা নামাজ কি?

মুসলমানরা দৈনন্দিন যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকে তা যদি কোন কারনে পড়া না হয় বা বাদ পড়ে যায় তখন তাকে কাজা নামাজ বলা হয়। অনেকে মনে করে কাজা নামাজ হয়তো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ব্যতীত অন্য কোন ইবাদত। এ বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেই আপনাদের যে কাজা নামাজ আমাদের এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের একটি বিশেষ অংশ।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন কাজা নামাজ কি। এর সাথে আমাদের কাজা নামাজের নিয়ম ও নিয়ত সম্পর্কেও বিশেষ জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ এ বিষয়গুলো না জানলে নামাজ আদায় করব কিভাবে।

কাজা নামাজ পড়ার নিয়ম কি?

এতক্ষণে হয়তো আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে কাজা নামাজ কাকে বলে। এখন তাহলে অবশ্যই আপনাদের জানতে হবে কাজা নামাজ পড়ার নিয়ম কি। চলুন তাহলে জেনে নেই কাজা নামাজ পড়ার নিয়ম কি।

কাজা নামাজ পড়ার নির্দিষ্ট কোন নিয়ম ধরা বাধা নেই। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যেমন আমাদের ওপর ফরজ এবং মৃত্যুর পরবর্তীকালে আমাদেরকে এই ফরজ নামাজের জন্য মহান আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। ঠিক তেমনিভাবে কাজা নামাজের জন্য আমাদের উত্তর দিতে হবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন কাজা নামাজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর অবশ্যই জেনে রাখা ভালো যে নফল নামাজ বাড়তি ইবাদতের মধ্যে পড়ে এবং এর জন্য আল্লাহর নিকট দণ্ডায়মান হতে হবে না। তাই নফল নামাজের চেয়ে কাজা নামাজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে মূল কথায় আসি। কাজা নামাজ আদায় করার সময় সুরা কেরাত পাঠ করার সময় মূল নামাজের অনুকরণ করতে হবে। যদি সফরের সময় কারো কসর নামাজ কাজা হয়ে থাকে, তবে বাড়িতে ফেরার পরে তার কাজা কসরই আদায় করতে হবে অর্থাৎ চার রাকাতের জায়গায় দুই রাকাত আদায় করতে হবে। তেমনি ঘরে কাজা হওয়া নামাজ যদি কেউ সফরে গিয়ে আদায় করে তবে পূর্ণ নামাজ পড়তে হবে।

কাজা নামাজ পড়ার নিয়ত কি?

কাজা নামাজ আদায় করার পূর্বে কাজা নামাজের নিয়ম ও নিয়ত সম্পর্কে অবশ্যই আমাদের পূর্ণ জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ভুলভাবে আদায় করতে হয় আর এই ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম কিছু নয়। কাজা নামাজ পড়ার নিয়ত কি তাহলে জেনে নিন।


কাজা নামাজ পড়ার নির্দিষ্ট কোন নিয়ত নেই। কাজা নামাজের আদায়ের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নিয়ত অনুসরণ করতে হয়। কারণ এটি দৈনিক নামাজের বাদ পড়ে যাওয়া অংশবিশেষ।

কাজা নামাজ কত রাকাত পড়তে হয়?

কোন ব্যক্তির যদি নামাজ কাজা হয়ে থাকে তাহলে কাজা নামাজ কত রাকাত পড়তে হবে এ বিষয়ে ধারণা আছে কি? এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে।

কাজা নামাজের নির্দিষ্ট কোনো রাকাত নেই। কারণ, কোন ব্যক্তির যদি ওয়াক্তের নামাজ ছুটে তখন সেটি কাজা হয়। আর উক্ত ব্যক্তির উপর নির্ভর করবে যে সে কত রাকাত নামাজ কাজা করেছে।

মনে করুন কোন ব্যক্তির জোহরের নামাজ কাজা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে যোহরের পরবর্তী যেকোনো সময় উক্ত ব্যক্তিকে তার অনাদায়ী নামাজ আদায় করে নিতে হবে। আর নামাজ আদায়ের সময় তাকে অবশ্যই ফরজ ও ওয়াজিব নামাজটি পড়তে হবে। কারণ নফল নামাজ ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত ইবাদত। তাই উক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রেখে কাজা নামাজের নিয়ম ও নিয়ত অনুসরণ করতে হবে এবং সালাত আদায় করতে হবে।

সারা জীবনের কাজা নামাজ আদায় করার নিয়ম কি? 

সারা জীবনের কাজা নামাজ কে বলা হয় উমরি কাজা। আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছে যাদের কয়েক বছরের বা কয়েক মাসের নামাজ কাজা হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে অনেকে বুঝে উঠতে পারে না যে এতগুলো নামাজ কিভাবে আদায় করবে। কিন্তু তাই বলে নামাজ অনাদায়ী থেকে যাবে এটা কখনোই করা যাবে না। সারা জীবনের কাজা নামাজ আদায় করার নিয়ম কি আপনাদের জানতে হবে।

মনে করুন কোন ব্যক্তির পাঁচ বছরের নামাজ কাজা হয়েছে। এখন আল্লাহর কাছে তওবা পাঠ করে এই নামাজগুলো ধাপে ধাপে আদায় করে নিতে হবে। সর্বপ্রথম কিছুদিন ফজরের কাজা নামাজ গুলো আদায় করে নিবে। এরপরে জোহর এবং পর্যায়ক্রমে সকল নামাজগুলো। এভাবে ব্যক্তির যতদিন পর্যন্ত মনে না হয় যে তার কাজা নামাজ আদায় করা শেষ হয়েছে ততদিন পর্যন্ত নামাজ আদায় করতে থাকবে।

আমরা মুসলমান তাই আমাদের জন্য নামাজ এর কোন বিকল্প নেই। এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে যাদের ওমরি কাজা রয়েছে তারা অবশ্যই আদায় করে নিবে। কারণ এই গুনাহের কোন মাফ নেই।

কত বছর বয়স হলে নামাজ ফরজ হয়?

পবিত্র আল-কুরআনে স্পষ্ট ও পরিপূর্ণভাবে বর্ণনা করা হয়েছে প্রত্যেক মুসলমানকে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে হবে। যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ কাজা করে থাকে তবে সেটি হয় কবিরা গুনাহ। যার কোন ক্ষমা নেই। কারণ এটি আল্লাহর আদেশের বাহিরে যাওয়া। অনেকেই সঠিকভাবে হয়তো জানে না কত বছর বয়স হলে নামাজ ফরজ হয়। কিন্তু এ বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সাত বছর বয়স হলে তোমরা তোমাদের সন্তানদের নামাজের আদেশ দাও। বয়স ১০ বছর হলে নামাজ না পড়লে তাদের প্রহার কর এবং বিছানা পৃথক করে দাও"।

ছেলে এবং মেয়ে উভয়ই যখন বয়ঃপ্রাপ্ত হয় অর্থাৎ বালেগ তখন থেকেই তাদের ওপর নামাজ ফরজ হয়ে যায়। ছেলেদের বালেগ হওয়ার নিদর্শন হলো স্বপ্নদোষ হওয়া। আর মেয়েদের নিদর্শন হলো মাসিক হওয়া। 

তাই আমরা আমাদের সন্তানদের উপযুক্ত বয়স হলে নামাজের জন্য তাগিদ করব। আশা করি উত্তরটি পেয়ে গেছেন।

কাজা নামাজের নিয়ত ও নিয়ম-শেষ কথা

নামাজ হলো আল্লাহর হক। নামাজ বাদ দিয়ে আল্লাহর হক নষ্ট করা কি কোন মুসলমানের শোভা পায়? কখনোই না। কারণ আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত আদায় করতে হবে। আমরা সর্বদাই চেষ্টা করব যেন নামাজ কাজা না হয়ে যায়। যদি নামাজ কোন কারনে কাজা হয়ে থাকে তবে অবশ্যই এর পূর্ণ নিয়ম ও নিয়ম অনুসরণ করে আদায় করে নিব। যতক্ষণ না নামাজ আদায় করা হবে ততক্ষণ আল্লাহর কাছে জিম্মাদারী থাকতে হবে। তাই প্রত্যেক মুসলমানকে কাজা নামাজের নিয়ম ও নিয়ত সম্পর্কে অবশ্যই অবগত থাকতে হবে।

আজকের আর্টিকেল থেকে আমরা কাজা নামাজের নিয়ম ও নিয়ত সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনারা কাঙ্খিত প্রশ্নের উত্তর গুলো পেয়েছেন। ভালো লাগলে অন্যের সাথে শেয়ার করুন। কাজা নামাজের নিয়ম ও নিয়ত সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে সহায়তা করুন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুক। লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।





Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url