খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা

আমাদের সকলেরই খুবই পরিচিত একটি ফল হল খেজুর। খেজুর বাংলাদেশে তেমন উৎপাদন না হলেও এটি এদেশের খুবই জনপ্রিয় একটি ফল। খেজুর বেশি পরিমাণে উৎপাদন হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। এছাড়াও ধর্মীয় দিক থেকে বলতে গেলে পবিত্র আল-কোরআনে খেজুর ফলটি উল্লেখ করা রয়েছে। খেজুরের গুনাগুন এতই বেশি যা অল্প কথায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।


আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা আপনাদের খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করব। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খেজুর সম্পর্কে জানতে হলে মনোযোগ দিয়ে আর্টিকেলটি পড়ুন।

খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরো কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। আলোচনার বিষয়বস্তু নিচে তুলে ধরা হলো।

পেজ সূচিপত্রঃ

খেজুর অত্যন্ত সুস্বাদু একটি ফল। খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে হয়তো আমরা অনেকেই অবগত। কিন্তু অনেকে হয়তো জানে না খেজুরে কোন কোন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। চলুন তাহলে এক নজরে দেখে নেয়া যাক খেজুরে কোন কোন পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান রয়েছে।
  • প্রোটিন
  • ক্যালসিয়াম
  • ফাইবার
  • ক্যালোরি
  • আয়রন
  • ভিটামিন এ
  • ভিটামিন কে
  • ভিটামিন বি
  • ম্যাগনেসিয়াম
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
  • কপার
  • জিংক
  • পটাশিয়াম ইত্যাদি।
এ সকল ভিটামিন উপাদান গুলো খেজুরে বিদ্যমান রয়েছে। এগুলো একজন ব্যক্তির শারীরিক গঠনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

খেজুর খাওয়ার নিয়ম কি?

খেজুর ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোন নিয়ম ধরা বাধা নেই। তাই কেউ যদি প্রশ্ন করে খেজুর খাওয়ার নিয়ম কি? তবে নির্দিষ্টভাবে এর কোন উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। কারণ, খেজুর দিনের যেকোনো ভাগে যখন মন চায় খাওয়া যায়। কিন্তু এটি বলা যায় যে, সকালে খেজুর খাওয়া ভালো। কারণ খেজুর শরীরকে শক্তি প্রদান করে এবং ক্লান্তি দূর করে থাকে। আর সারাদিন বিভিন্ন ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে যায়। যেহেতু খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা বিবেচনা করে আমরা এটি গ্রহণ করে থাকি।তাই বলা যায়, দৈনিক সকালে ব্যায়াম করার ঠিক ৩০ মিনিট পূর্বে খেজুর খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

খেজুরের উপকারিতা কি?

খেজুর তো অনেকেই খেয়ে থাকে। কিন্তু খেজুরের উপকারিতা কি সে সম্পর্কে কি কোন ধারণা রয়েছে আপনাদের? না থাকলে আজও জেনে নিন এই ফলের কত উপকারিতা রয়েছে।
  1. হাড় মজবুত করেঃ খেজুরে রয়েছে অতিমাত্রায় ক্যালসিয়াম যা আমাদের হাড়কে মজবুত করে। এছাড়াও দাঁত ও মাড়িকে সুরক্ষিত এবং সুস্থ রাখে।
  2. ত্বক সুন্দর করেঃ খেজুরের বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের উপস্থিতির কারণে এটি ত্বককে সুন্দর ও মসৃণ রাখে। বয়সের ছাপ কমিয়ে আনে।
  3. রক্তস্বল্পতা দূর করেঃ খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। আয়রনের স্বল্পতার কারণে রক্তের ঘাটতি হয়ে থাকে। তাই খেজুর খেলে আয়রনের ঘাটতি থাকে না এবং রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় না।
  4. দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিঃ খেজুরে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে যা আমাদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে থাকে।
  5. মেধা বিকাশঃ খেজুরের পুষ্টি উপাদানের উপস্থিতির কারণে এটি শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত সকলেরই মেধা বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখে।
  6. দুর্বলতা হ্রাসঃ খেজুর একটি শক্তি প্রদানকারী খাবার। খেজুর খেলে শরীরের দুর্বলতা হ্রাস পায়।
  7. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ খেজুরে প্রায় শারীরিক গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি ভিটামিনের বিদ্যমান রয়েছে। তাই এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
  8. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ খেজুর খেলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়ে যায়। পরিপাক ক্রিয়াকে সচল রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  9. ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণঃ খেজুর চিনির বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা যায়। তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো। ডায়াবেটিককে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
  10. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ খেজুরে থাকা ম্যাগনেসিয়াম উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে থাকে।
খেজুরের উপকারিতার কোন শেষ নেই। খেজুরে থাকা প্রতিটি উপাদান আমাদের শারীরিক নানা সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে।

খেজুরের অপকারিতা কি?

খেজুরের যেমন উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনি কিছু অপকারিতও বিদ্যমান। আমরা সর্বদাই উপকারের দিকটা বেশি লক্ষ্য করে থাকি কিন্তু যে কোন জিনিসের অপকারিতার দিকেও একটু খেয়াল রাখা উচিত। খেজুরের অপকারিতা কি চলুন জেনে নেই।
  • অতিরিক্ত পরিমাণ খেজুর খেলে ওজন বৃদ্ধি পায়। তাই পরিমাণ মতো খেজুর খাওয়া উচিত।
  • বেশি মাত্রায় খেজুর খেলে কিডনির উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।
  • প্রত্যেকের হজম শক্তি সমান নয়। তাই পরিমাণের চেয়ে বেশি খেজুর খেলে বদ হজম হতে পারে এছাড়াও পেটের বিভিন্ন সমস্যা দেখা যেতে পারে।

দিনে কয়টা খেজুর খাওয়া উচিত?

খেজুর নিঃসন্দেহে পুষ্টিগুণে ভরপুর। কিন্তু যে কোন খাবারের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে। খাবার উপযোগী যে কোন কিছুই অতিরিক্ত খাওয়া বিপদজনক। অনেকে রয়েছে সারা দিন মুখের স্বাদে খেজুর খেতেই থাকে। কিন্তু এমনটি করা যাবে না। আসুন তবে জেনে নেই দিনে কয়টা খেজুর খাওয়া উচিত।


খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা মাথায় রেখে একজন ব্যক্তির চার থেকে পাঁচটি খেজুর খাওয়া উচিত। এটি খেজুর খাওয়ার একটি আদর্শ মান অথবা ১০০ গ্রাম খেজুর গ্রহণ করা যেতে পারে। ১০০ গ্রাম খেজুরে ২৭৭ ক্যালোরি বিদ্যমান থাকে। খেজুর অতিরিক্ত মিষ্টি যার ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের কারণে ওজন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

গর্ভবতী অবস্থায় খেজুর খেলে কি হয়?

খেজুরে রয়েছে উচ্চমাত্রায় আয়রন ও পটাশিয়াম। আয়রনের উপস্থিতির কারণে গর্ভবতী মায়ের শরীরের রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যা থাকলে তা পূরণ হয়ে যায়। এছাড়াও ক্লান্তিবোধ দূর এবং শরীরে পর্যাপ্ত এনার্জি আসে। এছাড়াও যে সকল মায়ের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খেজুরের ভূমিকা অপরিসীম।

গর্ভবতী অবস্থায় খেজুর খেলে কি হয় আশা করি উত্তরটি পেয়ে গেছেন। কিন্তু গর্ভবতী নারীদের অবশ্যই খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে তারপর খাওয়া উচিত। কারণ গর্ভাবস্থায় সামান্য কিছুতেই বিপরীত ঘটতে পারে।

খেজুর ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা কি?

খেজুর এমনিতেই অনেক উপকারী। ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও ভিন্ন। আজ আপনাদের জানাবো খেজুর ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা কি।
  1. স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ ওজন বৃদ্ধি করে থাকে।
  2. পুরুষ ও নারী উভয়েরই যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে।
  3. পাইলস প্রতিরোধ করে থাকে।
  4. হার্ট সুস্থ রাখে।
  5. কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে।

শুকনো খেজুর খেলে কি হয়?

খেজুরের তুলনায় শুকনো খেজুরে রয়েছে পুষ্টির গুনাগুন অনেক বেশি। শুকনো খেজুর ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সাধারণ খেজুরের চেয়ে ভালো। শুকনো খেজুর ডায়াবেটিসকে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

অন্যদিকে শুকনো খেজুর খেলে পুরুষদের যৌন ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও পুরুষের শুক্রাণু শুকনো খেজুর খেলে ঘন হয়ে থাকে। যৌন সমস্যার সমাধান হিসেবে শুকনো খেজুর এর ভূমিকা অন্যতম।

খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা-শেষ কথা

যেকোনো জিনিস ভালো এবং মন্দ দুটো নেই তৈরি হয়ে থাকে। তেমনিভাবে খেজুরের যেমন উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনি কিছু অপকারিতাও রয়েছে। খেজুর শুকনো, ভেজা এবং স্বাভাবিক যে কোন অবস্থাতেই গ্রহণ করা যায়। তবে নির্দিষ্ট পরিমাণ বুঝে খেতে হবে। যাতে কোন ধরনের সমস্যা দেখা না দেয়। তাই আমরা খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা বিবেচনা করে এবং আমাদের শারীরিক অবস্থা চিন্তা করে খাব।

আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা আপনাদের খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে তথ্য দেয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনারা কাঙ্খিত তথ্যগুলো পেয়েছেন। ধৈর্য সহকারে লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানিয়ে দিবেন।






Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url