কিসমিসের উপকারিত ও অপকারিতা

 কিসমিস শব্দটি আমাদের সকলের কাছেই অনেক পরিচিত। অনেকের কাছে এটি অনেক পছন্দের একটি খাবার। কিন্তু আমরা কি জানি কিসমিসের উপকারিতা ও অপকারিতা কতটুকু? অনেকেই হয়তো জানে না। আজ আমরা আলোচনা করব কিসমিসের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।

কিসমিস আসলে কি বা কোন জাতীয় খাবার, কিসমিসের উপকারিতা ও অপকারিতা, কিসমিসে কি পরিমান উপাদান বিদ্যমান রয়েছে এবং প্রতিদিন কি পরিমান কিসমিস খাওয়া উচিত সে বিষয়গুলো নিয়ে আজকের লেখাটি আমরা বিস্তারিত জানবো। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক।

পেজ সূচিপত্রঃ

কিসমিস কি?

সাধারণত সকলেই কিসমিস খেয়ে থাকে। তবে আমরা সবাই কি জানি আসলে কিসমিস কি?কিসমিস হল শুকনো আঙ্গুর। আঙ্গুর ফলকে শুকিয়ে কিসমিসে রূপান্তর করা হয়। ইংরেজিতে কিসমিস কে রেইসিনও বলা হয়ে থাকে। আঙ্গুর ফল দ্বারা তৈরি এ কিসমিস বিভিন্ন রকম খাবারের ব্যবহৃত হয়। কিসমিস অনেক পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি শুকনো খাবার। যার প্রতিটি উপাদান আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী এবং প্রয়োজনীয়।

কিসমিস কত প্রকার?

কিসমিস অনেক রকম হয়ে থাকে। কিসমিস কত প্রকার রয়েছে সে সম্পর্কে প্রত্যেকেই হয়তো অবগত নয়। আজকে আমরা জনপ্রিয় তিনটি কিসমিসের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করব। যেমন-
  1. সুলতানা বা গোল্ডেন কিসমিসঃ সবুজ বিহীন আঙ্গুর ফলটি শুকিয়ে যে কিসমিস তৈরি করা হয় সেটিকে সুলতানা বা গোল্ডেন কিসমিস বলা হয়। রং সোনালী হয়ে থাকে এবং অন্যান্য কিসমিসের তুলনায় স্বাদ বেশি এবং ছোট আকারের হয়ে থাকে।
  2. বাদামি কিসমিসঃ বিভিন্ন ধরনের আঙ্গুরকে একত্রে মিশিয়ে দীর্ঘ সময় নিয়ে যে কিসমিস তৈরি করা হয় তাকে বাদামি কিসমিস বলা হয়। কারণ এ কিসমিসের রং বাদামী হয়ে থাকে।
  3. কালো বা বেদানা কিসমিসঃ কালো আঙ্গুর শুকিয়ে যে কিসমিস তৈরি করা হয় সেগুলোকে কালো বা বেদানা কিসমিস বলা হয়।
উপরোক্ত প্রকারভেদ ছাড়াও প্রায় সব রকমের কিসমিসের স্বাদ একই হয়ে থাকে এবং পুষ্টিগুণেও সকল প্রকার কিসমিস সমপরিমাণ। কিসমিস বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকলেও কিসমিসের উপকারিতা ও অপকারিতা সকল ক্ষেত্রেই একই।

কিসমিস খাওয়ার নিয়ম

কিসমিস খাওয়ার নিয়ম আসলে ধরা বাধা কোন কিছু নয়। কারণ অনেকেই শুকনো কিসমিস চিবিয়ে খায়। আবার অনেকে মিষ্টি জাতীয় খাবারের সাথে কিসমিস দিয়ে খায়। আবার অনেকে কিসমিস ভিজিয়ে রেখে খেতে পছন্দ করে। তাই নির্দিষ্টভাবে কিসমিস খাওয়ার কোন নিয়ম নেই।

কিসমিসে কোন কোন উপাদান বিদ্যমান রয়েছে?

কিসমিস যদিও আঙ্গুর থেকে তৈরি, তবে এ পুষ্টিগুণ আঙ্গুরে তুলনায় বহু গুণ বেশি। আমরা অনেকেই হয়তোবা জানিনা যে কোন ফল থেকে তৈরি শুকনো উপাদান বা শুকনো ফলে অনেক পুষ্টিগুণ বেশি থাকে। কিসমিসে কোন কোন উপাদান বিদ্যমান রয়েছে চলুন জেনে নেই।
  • ম্যাগনেসিয়াম
  • আয়রন
  • কার্বোহাইড্রেট
  • পটাশিয়াম
  • ভিটামিন কে
  • ভিটামিন সি ও
  • ভিটামিন এ এবং
  • ফাইবার
উপরোক্ত উপাদান গুলো কিসমিসে বিদ্যমান রয়েছে যা মানুষের শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কিসমিস এর উপকারিতা

কিসমিস এর উপকারিতা এত বেশি যা এক বাক্যে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে আজকে আমরা কিসমিসের উপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব। আসুন তবে জেনে নেয়া যাক।

  1. মেধা বিকাশে সহায়তাঃ কিসমিস খেলে মেধা শক্তি বৃদ্ধি পায়। কিসমিস মেধা বিকাশে সহায়তাকারী একটি খাবার। বাচ্চাদের ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট এর জন্য কিসমিস খুবই কার্যকরী। এটি শিশুদের পড়াশোনা দিকে মনোযোগ বৃদ্ধি করে থাকে।
  2. রক্তস্বল্পতা দূর করাঃ  মানবদেহে রক্তের লোহিত কণিকা হ্রাস পেলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। কিসমিস খেলে শরীরে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। কারণ এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার আয়রন। ফলে এটি রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে।
  3. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করাঃ কিসমিসে বিদ্যমান ফাইবারের কারণে শরীরে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, যার ফলে পরিপাক ক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দেয় না। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়মিত কিসমিস খাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে এটি খুবই কার্যকরী।
  4. নিরাপদভাবে ওজন বৃদ্ধিঃ কিসমিস শরীরে কোলেস্টরেল দূর করতে সহায়তা করে। কিসমিসে রয়েছে পোটেনশিয়াল এনার্জি যা শরীরের ওজন নিরাপদ ভাবে বৃদ্ধি করে থাকে। মেদ ভুঁড়ি ব্যতীত সামঞ্জস্য ওজন বৃদ্ধিতে কিসমিসের ভূমিকা অপরিসীম।
  5. ক্যান্সার প্রতিরোধ করাঃ কিসমিসের রয়েছে কেটেচিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরে ক্যান্সারের সেল বৃদ্ধি হতে দেয় না। ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে।
  6. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়, এই সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কিসমিস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে।
  7. পর্যাপ্ত ঘুমঃ উচ্চ মাত্রায় আয়রনের কারণে কিসমিস খেলে মানসিক অবসাদ দূর হয় এবং পর্যাপ্ত ঘুম হয়। যা শরীরের সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক কথায় আমরা বলতে পারি, উপরোক্ত উপকারিতা গুলো ছাড়াও কিসমিস আরো অনেক ভাবে আমাদের শরীরকে ভালো রাখে যা সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। কারণ কিসমিসের গুনাবলির কোন শেষ নেই। 

কিসমিস এর অপকারিতা

যে কোন জিনিসের যেমন উপকারিতা রয়েছে ঠিক একইভাবে কিছু অপকারিতাও বিদ্যমান। তেমনিভাবে যেমন কিসমিসের উপকারিতা রয়েছে, এর মাঝে কিছু অপকারিতাও রয়েছে। এতক্ষণ আমরা উপকারিতা সম্পর্কে জেনেছি। এখন তাহলে জেনে নেয়া যাক কিসমিস এর অপকারিতা সম্পর্কে।
  • যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা পরিমাণে বেশি কিসমিস খাবেন না, এতে ডায়াবেটিস বেড়ে যেতে পারে। যার ফলে শারীরিক অসুস্থতা বৃদ্ধি পাবে।
  • অতিরিক্ত কিসমিস খেলে হজমের সমস্যা দেখা দেয়। তাই পরিমাণের চেয়ে বেশি কিসমিস না খাওয়াই ভালো।
  • যাদের এলার্জির সমস্যা রয়েছে তারা পরিমাণ মতো খাবেন। অতিরিক্ত কিসমিস খেলে এলার্জি বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • যাদের ওজন এমনিতেই বেশি তারা পরিমাণের তুলনায় বেশি কিসমিস খাবেন না। এটি আপনার ওজন আরো বৃদ্ধি করবে।
কিসমিস নিঃসন্দেহে উপকারী একটি খাবার। কিন্তু কিসমিসের উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে তারপর গ্রহণ করা শ্রেয়।

    প্রতিদিন কি পরিমাণ কিসমিস খাওয়া উচিত?

    কিসমিস অনেকেরই পছন্দের একটি খাবার। কিন্তু প্রতিদিন কি পরিমাণ কিসমিস খাওয়া উচিত সে বিষয়ে হয়তো অনেকেই অবগত নয়। যেকোনো খাবারের একটি কাম্য মাত্রা থাকা স্বাভাবিক। ঠিক তেমনিভাবে কিসমিস খাওয়ার ও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে। আসুন তবে জেনে নেয়া যাক।


    প্রতিদিন ৮ থেকে ১৫টি কিসমিস খাওয়া স্বাভাবিক। দৈনিক কোন ব্যক্তি এ পরিমাণ কিসমিস খেতে পারে। এর ফলে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে না আশা করা যায়। কিসমিসের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে এরপর তা গ্রহণ করাই উত্তম।

    কিসমিস ভেজানো পানি খাওয়ার উপকারিতা

    কিসমিস ভিজিয়ে রেখে খাওয়া যায়। এটি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। কিসমিস ভেজানো পানি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন।

    এক কাপ পানিতে ৭৫ গ্রাম কিসমিস সারা রাতের জন্য ভিজিয়ে রেখে দিন। এরপর সকালে উঠে খালি পেটে কিসমিস ভেজানো পানিটি পান করুন। কিসমিসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আয়রন শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন-কিডনি, লিভার ও হৃদপিণ্ডকে ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও সারা দিনে অনেক প্রাণবন্ত রাখবে।

    কিসমিসের উপকারিতা ও অপকারিতা-শেষ কথা

    প্রতিটি খাবারে ভালো এবং মন্দ দুটোই বিদ্যমান।কিসমিসের ক্ষেত্রেও বিপরীত কোন কিছু নয়।কিসমিসের উপকারিতা বহুগুণ বেশি। পাশাপাশি এর কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। এটি অস্বাভাবিক কিছুই নয়। শুকনো কিসমিস, ভেজা কিসমিস উভয়ে আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই আমরা কিসমিস গ্রহণ করব কিন্তু একটি কাম্য মাত্রায়। যেন কোন বিপরীত না ঘটে।

    আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা আপনাদের কিসমিসের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছি। আশা করি আমাদের লেখাটি পড়ে আপনারা কিসমিসের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য পেয়েছেন। এমন আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। লেখায় ভুল হলে ক্ষমা করবেন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।
    Next Post Previous Post
    No Comment
    Add Comment
    comment url