ওজন কমানোর উপায়

অতিরিক্ত ওজন আসলে কেউই আশা করে না। একবার ভাবুন তো অতিরিক্ত মোটা হয়ে গেলে আপনাকে দেখতে কেমন লাগবে? আসলেই খুব খারাপ লাগবে। শুধু তাই নয়, শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগতে হবে। তাহলে আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন ওজন কমানোর কথা। আপনি যদি ওজন কমানোর উপায় খুজছেন তাহলে একদম ঠিক জায়গায় এসেছেন।


আজ আমরা আপনাদের ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে সঠিক এবং বিস্তারিত তথ্য দেয়ার চেষ্টা করব। ওজন কমানোর জন্য বিভিন্ন পন্থা কিভাবে অবলম্বন করতে হবে সে বিষয়ে জানতে হলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

আজকের আলোচনার বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

পেজ সূচিপত্রঃ

ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা খুবই জটিল একটি কাজ। কিন্তু তাই বলে ওজনকে বৃদ্ধি করা যাবে না। কারণ এর ফলে বিভিন্ন জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। এমন অনেকেই আছে যাদের ওজন অস্বাভাবিক। ফলে দ্রুত ওজন কমানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। 

আজ আমরা আলোচনা করব দ্রুত ওজন কমানোর উপায় কি এ বিষয়ে। চলুন তাহলে জেনে নেই।

  1. অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা পরিহারঃ অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বাধা দেয়। জেনে নিশ্চয়ই অবাক হলেন? হ্যাঁ, মানুষ যখন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করে তখন ক্ষুধার পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মানুষ অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করে। তাই দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা পরিহার করতে হবে।
  2. চিনি বাদ দিনঃ ওজন বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ হলো চিনি খাওয়া। চিনি ওজনকে খুব দ্রুত বৃদ্ধি করে। এক চা চামচ চিনিতে প্রায় ক্যালোরি থাকে ১৬ শতাংশ। তাহলে বুঝতেই পারছেন এটি কতটুকু ক্ষতিকর।
  3. পর্যাপ্ত বিশ্রামঃ অতিরিক্ত ঘুম ক্ষতিকর। তাই রুটিন করে প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
  4. পর্যাপ্ত পানি পানঃ পানি আমাদের শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে যার ফলে ওজন হ্রাস পায়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।
  5. রাতের খাবার তাড়াতাড়ি গ্রহণ করাঃ দৈনিক রাত আটটার মধ্যে রাতের খাবার নেয়ার চেষ্টা করুন। কারণ খাবারের সাথে সাথে ঘুমাতে যাওয়া ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
  6. ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুনঃ ফাস্টফুট জাতীয় খাবার প্রচুর ক্যালরি বহুল হয়ে থাকে। যা ওজন দ্রুত বৃদ্ধি করে। তাই এই অভ্যাসটি থাকলে এখনই বাদ দিন।
  7. গ্রিন টিঃ নিয়মিত গ্রিন টি খেলে শরীরের অনেক ক্যালোরি ক্ষয় হয়ে থাকে। গ্রিন টি ওজন কমাতে অনেক বেশি সাহায্য করে।
  8. ব্যায়ামঃ ব্যায়াম হল ওজন কমানোর উপায় এর মধ্যে অন্যতম। তাই নিয়মিত এক ঘন্টা হাটা এবং অন্যান্য ব্যায়াম করা জরুরী।
  9. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনঃ আমাদের খাবার রুটিন থেকে কার্বোহাইড্রেট, চর্বিযুক্ত খাবার, অ্যালকোহল জাতীয় খাবার ত্যাগ করতে হবে।

প্রাকৃতিকভাবে ওজন কমাতে করনীয় কি?

ওজন বিভিন্নভাবে কমানো সম্ভব। এর মধ্যে অন্যতম একটি পন্থা হলো প্রাকৃতিকভাবে ওজন কমানো। প্রাকৃতিক ভাবে বলতে কোনরকম মেডিসিন বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজস্ব উদ্যোগে ওজন কমানো কে বোঝায়। প্রাকৃতিকভাবে ওজন কমাতে করনীয় কি তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
  • প্রাকৃতিকভাবে ওজন কমানোর অন্যতম উপায় হল ব্যায়াম করা। বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ব্যায়াম, যোগব্যায়াম ইত্যাদির মাধ্যমে ওজন কমানো সম্ভব।
  • তেল জাতীয় খাবার বর্জন করুন। ঘরোয়া খাবারের অভ্যস্ত হবার চেষ্টা করতে হবে।
  • প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
  • ভাতের পরিবর্তে লাল আটা রুটি খেতে পারেন।
  • ধীরে ধীরে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ বেশিক্ষণ চিবিয়ে খেলে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে আসে।
  • যে কোন খাবার অতিরিক্ত খাওয়ার চেষ্টা করবেন না। 
  • মিষ্টি জাতীয় খাবার একদম বন্ধ করে দিন।
  • বিভিন্ন রকম ফলের জুস খেতে পারেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং এতে রয়েছে ন্যাচারাল সুগার।

ব্যায়াম না করে ওজন কমানোর উপায় কি?

ওজন কমানোর উপায় বলতে যে শুধু ব্যায়াম করতে হবে এমনটি একদমই নয়। ব্যায়াম না করেও ওজন কমানো সম্ভব। জেনে অবাক হচ্ছেন নিশ্চই? আজ আমরা আপনাদের জানাবো ব্যায়াম না করে ওজন কমানোর উপায় কি এ বিষয়ে।


ব্যায়াম না করে ওজন কমানোর অন্যতম উপায় হলো রোজা রাখা। এটি একটি উত্তম উপায় ওজন কমানোর। মানুষ যখন কম খাদ্য গ্রহণ করে তখন তার শরীরের চর্বি ক্ষয় হতে থাকে। যার ফলে ওজন হ্রাস পায়। অনুরূপভাবে, যখন কোন ব্যক্তি রোজা রাখে তখন দীর্ঘ সময় না খাওয়ার ফলে চর্বি ধরে যায়। তাই কোন ব্যক্তি চাইলে ব্যায়াম না করে সর্বোচ্চ ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত রোজা রাখতে পারে। কিন্তু নিয়মিত আট ঘন্টা অবশ্যই ঘুমাতে হবে। সেই সাথে যতটুকুই খাবে শক্তি সামর্থ খাবার খেতে হবে যেন শরীর দুর্বল হয়ে না পড়ে।

ওজন কমানোর খাবার তালিকা

অস্বাস্থ্যকর ওজন আমাদেরকে হুমকির দিকে ঠেলে দেয়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট একটি সুষম খাবার তালিকা তৈরি করা উচিত। ওজন কমানোর খাবার তালিকা যেমনটি হওয়া উচিত তা নিচে বর্ণনা করা হলো-
  • বিভিন্ন প্রকার বাদাম খাবার তালিকায় রাখতে পারেন। এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের সহায়ক।
  • দই খাওয়া যেতে পারে। এতে রয়েছে প্রচুর জিংক, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন।
  • দৈনিক অবশ্যই খাবার তালিকায সালাত রাখতে হবে।
  • ওজন কমাতে হলে খাদ্য তালিকায় অবশ্যই ডিম রাখতে হবে।
  • চা ও কফি খেতে হবে দুধ ছাড়া।
  • প্রতিদিন খাবার তালিকা শসা, শাকসবজি এবং ডাল রাখতে হবে।
  • খাবার তালিকায় সামুদ্রিক মাছ রাখতে পারেন। এটি ওমেগা থ্রি এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যা শরীরে ফ্যাট জমতে দেয় না।
  • দৈনিক ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট হাটাহাটি বা যেকোন ব্যায়াম করতে হবে।
  • সবুজ শাকসবজি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, মুরগির মাংস, পনির ইত্যাদির দৈনিক খাবার তালিকায় অবশ্যই রাখতে হবে। কারণ এসব খাবারগুলোতে প্রোটিন এবং ফাইবার বিদ্যমান রয়েছে যা দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

ঘুমিয়ে ওজন যেভাবে কমাবেন

আমরা সবাই জেনে এসেছি ঘুমালে ওজন বেড়ে যায়। কিন্তু আমাদের এই ধারণাটি একদম ঠিক নয়। ঘুমের মধ্যে ওজন কমে। বিশ্বাস হচ্ছে না তাই তো? বিশেষজ্ঞরা ঠিক এমনটাই বলছে। চলুন তাহলে জেনে আসি ঘুমিয়ে ওজন যেভাবে কমাবেন।ঘুম শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা দীর্ঘদিন না ঘুমালে কোন মানুষ সুস্থ থাকতে পারে না। বেশি ঘুমালে ওজন বেড়ে যায়। কিন্তু এই ঘুমের মধ্যে ওজন কমানোর রহস্য নিহিত রয়েছে।

  • রাতে ঘুমোতে যাওয়ার দেড় থেকে দুই ঘন্টা আগে খাবার খেতে হবে। 
  • ঘুমানোর সময় ঘরে আলো দিয়ে ঘুমানো যাবে না। কারণ, অন্ধকার ঘরে ঘুমালে দ্রুত শরীরের ক্যালরি ঝরে পড়ে।
  • ঘুমানোর সময় হালকা কাপড় পড়ে ঘুমাতে হবে যেন রক্ত চলাচল সহজ হয়। কারণ ঘুমালে শরীর নিজেকে গরম রাখার জন্য পরিশ্রম করে যার ফলে ক্যালরি ক্ষয় হয় এবং ওজন কমায়।
  • ঘুমানোর সময় যে কোনো ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। কারণ ডিভাইসের আলো শরীরে মেদ কমানোর উপাদান তৈরি হতে দেয় না।
  • দৈনিক নিয়ম মেনে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।

মেয়েদের দ্রুত ওজন কমাতে করনীয়

ওজন নিয়ে তো বেশিরভাগ মানুষই চিন্তিত। এর মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি। মেয়েরা খুবই চিন্তিত থাকে তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন নিয়ে। এক্ষেত্রে কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। মেয়েদের দ্রুত ওজন কমাতে করণীয় কি তা হল-

  1. ব্ল্যাক টি খাওয়ার অভ্যাস করা। এটি দ্রুত ওজন কমাতে সহায়ক।
  2. সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে লেবু পানি পান করা।
  3. গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস করা।
  4. ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণ করা।
  5. নির্দিষ্ট সময় মেনে ব্যায়াম করা।
  6. কার্বোহাইড্রেটকে খাদ্য তালিকা থেকে ত্যাগ করা।
  7. প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা।
  8. পর্যাপ্ত বিশ্রাম করা।
  9. প্রচুর পরিমাণ সবজি ও ফল খাওয়া।
  10. রোজা রাখা।
মেয়েদের ওজন কমানোর জন্য উপরের করণীয় গুলো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ওজন কমানোর ইসলামিক উপায় কি?

ইসলাম এমন একটি ধর্ম যেখানে প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট এবং পরিপূর্ণ ধারণা ব্যাখ্যা করার রয়েছে। ইসলামে ওজন কমানো নিয়ে বেশ কিছু মতামত প্রকাশ করা হয়েছে। তাহলে জেনে নিন ওজন কমানোর ইসলামিক উপায় কি।

মানবজাতির জন্য একজন উত্তম আদর্শ হলো হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। প্রিয় নবীর জীবন পর্যালোচনা করে দেখতে গেলে ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে জানা যাবে।
আমাদের নবী বলেছেন, তোমরা প্রতিমাসে তিনটি করে রোজা পালন করবে। রোজা যে শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুশাসন এমনটি নয় রোজা ওজন কমাতে সহায়ক।

এছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুধা পেটে নিয়ে খাবার গ্রহণ করতেন এবং পেটে ক্ষুধা রেখে খাবার শেষ করতেন। আর এটি তিনি তার উম্মতের জন্য আদেশ করেছিলেন।
রাসূলের প্রতিটি কার্যক্রম আমাদের জন্য আদর্শ এবং আদেশ দুটোই। এ সকল কার্যক্রমে লুকিয়ে রয়েছে ইসলামিক তরিকায় ওজন কমানোর উপায়।

ওজন কমানোর উপায়-শেষ কথা

অতিরিক্ত ওজনের কোন ব্যক্তি আশা করে না। এখন অনেকেই নিজেকে ফিট রাখার জন্য প্রচুর টাকা খরচ করছে কিন্তু এরপরও কাঙ্খিত ফল পাচ্ছে না। তাই ঘরোয়াভাবে এবং নিজস্ব প্রচেষ্টায় ওজন কমানোর চেষ্টা করতে হবে। একান্তই সফল না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। নিয়মিত ডায়েট চার্ট মেনে এবং লাইফস্টাইলে ও খাদ্যাভাসের পরিবর্তন করে অবশ্যই ওজন কমানো সম্ভব। কারণ,চেষ্টা করলে সফলতা আসবেই। স্বাস্থ্যকর ওজন হবে সুস্থ থাকার কারণ।

প্রিয় পাঠকগণ, আজ আমরা আপনাদের ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আপনারা উপকৃত হবেন। বিভিন্ন বিষয়ে আপনাদের জ্ঞান অর্জনই আমাদের সফলতা। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব উত্তর দেয়ার। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।





Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url