ঢাকার ১০ টি সেরা দর্শনীয় স্থান

বাংলাদেশের রাজধানী হলো ঢাকা। ঢাকা শহরের নাম জানে না এমন কোন ব্যক্তি হয়তো বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশের প্রধান শহর ঢাকায় ঘুরতে যাওয়ার জন্য অসংখ্য জায়গা রয়েছে যে জায়গাগুলো ঐতিহাসিক এবং দার্শনিক।


শহরের বদ্ধ জীবন এবং কোলাহল আর কতই ভালো লাগে। তাই ছুটির দিনে ব্যস্ততা দূর করার জন্য এবং মানসিক শান্তির জন্য কোথাও ঘুরে আসাটা পরিবার নিয়ে মন্দ নয়। তাই আজ আমরা ঢাকার ১০ টি সেরা দর্শনীয় স্থান নিয়ে আলোচনা করব। এ সকল জায়গা গুলোতে দেখার মত এমন অনেক কিছুই রয়েছে যা আপনার ভ্রমণের আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করবে এবং অজানা অনেক তথ্য সম্পর্কে জানতে পারবেন।

চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ঢাকার ১০ টি সেরা দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত।

পেজ সূচিপত্রঃ 

দর্শনীয় স্থান লালবাগ কেল্লা

দর্শনীয় স্থান লালবাগ কেল্লা অবস্থিত ঢাকার দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে। লালবাগ কেল্লা একটি ঐতিহাসিক স্থান এবং মুঘল দুর্গ যেটি কার্যক্রম অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছিল। মুঘল সুবেদার আজম শাহ কর্তৃক এই দুর্গটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল কিন্তু শেষ করতে পারেনি।


বাংলার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ হল এই লালবাগ দুর্গ । এই জায়গাটি যে শুধু ঘুরতে যাওয়ার জন্য এমনটি নয়। সেখানে গেলে ইতিহাস সম্পর্কে অনেক কিছুই জ্ঞান অর্জন করা যায়। তাই যারা ঢাকার মধ্যে অবসরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য জায়গা খুঁজছেন তারা লালবাগ কেল্লাটি দেখে আসতে পারেন।

দর্শনীয় স্থান হাতিরঝিল

দর্শনীয় স্থান হাতিরঝিল অবস্থিত ঢাকা জেলায়। ঢাকার মত ব্যস্ত শহরে হাতিরঝির হলো মনোরম একটি পরিবেশ। যেখানে গেলে সারা সপ্তাহের জমে থাকা ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। হাতিরঝিলে রয়েছে একদিকে সবুজ এবং অন্যদিকে পরিষ্কার টলটলে পানি যেখানে রয়েছে যাত্রীবাহী ওয়াটার বাস।

বিকেল বেলা পরিবার এবং প্রিয়জনকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার অন্যতম একটি বিনোদন কেন্দ্র হল হাতিরঝিল। বর্তমানে এই জায়গাটিতে একটি ভাসমান থিয়েটার চালু করা হয়েছে যেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এছাড়াও সন্ধ্যার পর সেখানে ফোয়ারা গুলো দেখতে অসাধারণ এবং অদ্ভুত সুন্দর লাগে।ঢাকা শহরের ভিতরে এমন একটি জায়গা না দেখলেই নয়। কারণ এই জায়গাটিতে গেলে আপনার মনে হবে না যে আপনি ঢাকার মত এত একটি ব্যস্ত শহরের মাঝে অবস্থান করছেন। ঢাকার ১০ টি সেরা দর্শনীয় স্থান আলোচনা করতে গেলে তালিকায় হাতিরঝিলকে রাখতেই হবে। কারণ এই স্থানটি খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

দর্শনীয় স্থান আহসান মঞ্জিল

দর্শনীয় স্থান আহসান মঞ্জিল বাংলাদেশের ঐতিহ্যের একটি বিশেষ অংশ। আহসান মঞ্জিল অবস্থিত পুরাতন ঢাকার কুমারটুলি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে। এই জায়গাটি ব্যবহৃত হতো ঢাকায় অবস্থিত নবাবদের প্রাসাদ এবং কাচারি হিসেবে। আহসান মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নবাব আব্দুল গনি। তার পুত্র আহসানুল্লাহ এর নাম অনুসারে তিনি এই প্রাসাদ টির নাম দেন আহসান মঞ্জিল।

বর্তমানে এই দর্শনীয় স্থানটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত। ঢাকা শহরের ভেতর এবং ঢাকার বাহির থেকেও অসংখ্য মানুষ এই ঐতিহাসিক স্থানটি দেখতে আসে। এটি বাংলার ঐতিহ্য শুধু নয় ইতিহাস ও ব্যাখ্যা করে থাকে। তরুন তরুণী থেকে শুরু করে সকল বয়সী মানুষ কৌতুহল নিয়ে এই স্থানটিতে পরিদর্শনের জন্য আসে।

দর্শনীয় স্থান বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর

দর্শনীয় স্থান বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অবস্থিত ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে আবাসিক এলাকায়। জাতির পিতা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর বাসভবন। ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট যখন জাতির পিতা কে তার পরিবারসহ হত্যা করা হয় তার পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনটিকে জাদুঘর ঘোষণা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর জীবনের মূল্যবান সময় কাটিয়েছেন এই বাসভবনে। তার মূল্যবান ছবি সহ অনেক ব্যবহৃত জিনিস দ্বারা সজ্জিত রয়েছে বাসভবনটি। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতার এ সকল স্মৃতি সম্পর্কে জানার জন্য অসংখ্য মানুষ জায়গাটিতে ভিড় জমায়। তাই ছুটিতে ঢাকায় দেখার মতো এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হতে পারে। ঢাকার ১০ টি সেরা দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর উল্লেখযোগ্য একটি স্থান।

দর্শনীয় স্থান বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর

দর্শনীয় স্থান বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর অবস্থিত ঢাকার শাহবাগে। এ জাদুঘরটি সমগ্র বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। পূর্বে ছিল এটি ঢাকা জাদুঘর তবে বর্তমানে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি  বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সম্পূর্ণ বাংলাদেশের ইতিহাসকে এখানে তুলে ধরা হয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে প্রতিটি বয়সের মানুষই এই স্থানটিতে যেতে পারে। আমাদের মতে যাওয়া উচিত। কারণ স্থানটিতে গেলে বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক অভিজ্ঞতা এবং ইতিহাস জানা যাবে। ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থিত চার তলা ভবনটিতে রয়েছে ৪৬ টি গ্যালারী যেখানে রয়েছে ৮৩ হাজারেরও বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ জাদুঘর এটি। এটি রয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি ধাপের সঙ্গে পরিচয় করে দেয়ার ক্ষেত্রে অসীম ভূমিকা পালন করে এই জাদুঘরটি। তাই প্রতিটি ব্যক্তিকে একবার হলেও বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর ঘুরে আসা উচিত।

দর্শনীয় স্থান আর্মেনিয়ান চার্চ

দর্শনীয় স্থান আর্মেনিয়ান চার্ট অবস্থিত পুরান ঢাকায়। এটি একটি খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উপাসনালয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আর্মেনীয়রা ঢাকায় এসে অবস্থান করেছিল এবং ১৭৮১ সালে এই চার্চটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চার্চের পূর্বে এটি ছিল একটি আর্মেনীয়দের কবর স্থান। পরবর্তীতে এই জমিটি আগা মিনাস ক্যাটচিক দান করে দেয় সেখানে গির্জা তৈরীর উদ্দেশ্যে।

এই স্থানটি অনেক আগের এবং দার্শনিক। তাই অবসরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য ঢাকার মধ্যে এটি একটি অন্যতম জায়গা।

দর্শনীয় স্থান বোটানিক্যাল গার্ডেন

দর্শনীয় স্থান বোটানিক্যাল গার্ডেন অবস্থিত ঢাকার মিরপুরে। এটি একটি উদ্ভিদ জাতীয় উদ্যান। এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উদ্ভিদ উদ্যান যেটি প্রায় ২০৮ একর জায়গা জুড়ে অবস্থান করছে। এই উদ্যানটিতে রয়েছে অনেকগুলো জলাশয় এবং সবুজের ছায়াঘেরা গাছ-গাছালি যা আসলেই মনমুগ্ধকর। জলাশয় গুলোতে ফুটে থাকে অগণিত শাপলা ফুল। কৃত্রিম লেক সহ ফুলের বাগান এবং পায়ে হেঁটে যাবার জন্য সুন্দর তৈরি রাস্তা যেখানে দর্শনার্থীরা হেঁটে এর অপরূপ দৃশ্য অবলোকন করে থাকে।

লক্ষ লক্ষ মানুষ এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ভিড় জমায়। ঢাকার ১০ টি সেরা দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে এটি অন্যতম খ্যাতি অর্জন করেছে।

দর্শনীয় স্থান জাতীয় সংসদ ভবন

দর্শনীয় স্থান সংসদ ভবন অবস্থিত শেরে বাংলা নগরীতে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম একটি শিল্প স্থাপনা। জাতীয় সংসদ ভবন মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি। এই বিশাল স্থাপনার স্থপতি হলো লুই আই কান। সংসদ ভবনের প্রবেশদ্বার টি হল জ্যামিতিক আকারের। ভবনটির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধান হলটি অবস্থিত যেখানে পার্লামেন্ট বসে। মূল হলরুমটিকে কেন্দ্র করে তার চারপাশে গোলাকার আকৃতিতে প্রতিটি ডিজাইন করা হয়েছে। যা দেখতে অসাধারণ সুন্দর।

যে কোন ব্যক্তি ঢাকায় অবস্থানকালে সংসদ ভবন দেখবে না এমনটি আসলেই মেনে নেয়ার মত নয়। তাই ছুটির দিনে চলে যেতে পারেন বাংলাদেশে অন্যতম স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবন এর সৌন্দর্য এবং বিশালতা অবলোকন করার জন্য। যদি ঢাকা ১০ টি সেরা দর্শনীয় স্থান এর কথা বলতে যাই তবে জাতীয় সংসদ ভবনকে শীর্ষে রাখতেই হয়।

দর্শনীয় স্থান ঢাকেশ্বরী মন্দির

দর্শনীয় স্থান ঢাকেশ্বরী মন্দির বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির। ঢাকা ১০ টি সেরা দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কথা না বললেই নয়। মূলত ঢাকার ঈশ্বরী তথা রক্ষা কর্ত্রী হিসেবে এই মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে ঢাকেশ্বরী। এই মন্দিরটি অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হল এর কিছুদূর এগিয়ে।

মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন রাজা বল্লাল সেন। এই মন্দিরটির প্রধান প্রবেশদ্বার দুটি। দুর্গা থেকে শুরু করে শিব পর্যন্ত প্রতিটি দেব-দেবীর মূর্তি এখানে রয়েছে। এ মন্দিরটির সৌন্দর্য বাড়াতে এর ভেতরে রয়েছে পুকুর। পুকুরটি অনেক প্রাচীন এবং বাঁধাই করা চারদিক দিয়ে যার ফলে এর সৌন্দর্য আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে পূর্বের তুলনায়। পুকুরটিতে মাছ চাষ ও করা হয়। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের বাগান যা সত্যিই অনেক অসাধারণ।

দর্শনীয় স্থান জাতীয় চিড়িয়াখানা

দর্শনীয় স্থান জাতীয় চিড়িয়াখানা অবস্থিত ঢাকা মিরপুরে। এটি পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা এবং অনেক প্রাচীন এবং সবচেয়ে বৃহৎ চিড়িয়াখানা যেখানে ২১৫০ টি প্রাণী রয়েছে। চিড়িয়াখানাটি প্রায় ৭৫ হেক্টর জায়গার উপরে অবস্থিত। চারিদিকে সুনিবির ছায়াঘেরা এবং অসংখ্য প্রজাতির জীবজন্তু সহ দেখার মত অনেক কিছু রয়েছে।

বিশাল এই চিড়িয়াখানাটিতে সব ধরনের পশু সহ নানান জাতের পাখি রয়েছে। সম্পূর্ণ চিড়িয়াখানাটি ঘুরে দেখতে প্রায় অনেক সময় লেগে যায়। তাই ছুটির কোন একদিন পরিবারসহ শুধুমাত্র এই জায়গাটিকে উদ্দেশ্য করে বেড়াতে যেতে পারেন। ঢাকার ১০ টি সেরা দর্শনীয় স্থান সমূহের মধ্যে জাতীয় চিড়িয়াখানাকে কোনভাবেই বাদ দেয়া যায় না।

ঢাকার ১০ টি সেরা দর্শনীয় স্থান-শেষ কথা

প্রিয় পাঠকগণ, আজ আমরা ঢাকার ১০ টি সেরা দর্শনীয় স্থান নিয়ে আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আমরা আপনাদের এ সকল জায়গা সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য প্রদান করেছি এবং এ জায়গাগুলো কতটুকু ঐতিহাসিক এবং বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেগুলো না দেখলে আসলে হয় না সে বিষয়েই জানিয়েছি।

আশা করি আপনারা আপনাদের ছুটির দিনগুলোতে পরিবার এবং প্রিয়জনসহ উল্লেখিত স্থানগুলোতে সুন্দর সময় কাটাবেন এবং দেশের ঐতিহ্য এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন। এসব স্থানগুলো শুধু যে ভ্রমণের জন্য এমনটি নয়। এগুলো যেমন বাহ্যিক সৌন্দর্য প্রকাশ করে ঠিক তেমনি ভাবে দর্শনার্থীদের জ্ঞানের পরিধিও বৃদ্ধি করে থাকে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url