ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম ২০২৩

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরার জন্য সচরাচর আমরা বিভিন্ন ধরনের যানবাহন
ব্যবহার করে থাকি। অনেকেই পার্সোনাল গাড়ি ব্যবহার করে থাকে যেখানে চালক সে নিজেই। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভাড়ায় চালিত গাড়িতে যাত্রী হিসেবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে থাকি যেখানে চালক থাকে অন্যজন।


যাই হোক না কেন নিজস্ব বা ভাড়ায় চালিত গাড়ি দুটোর জন্যই ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হয়। আর এ লাইসেন্সটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে দৈনন্দিন চলাফেরার ক্ষেত্রে ।ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই অনেক ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয়। তাছাড়া সরকারিভাবে এই লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের নিত্য নতুন নিয়ম কানুন জারি করা হয়ে থাকে।

আজকে আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে যাচ্ছি। যেহেতু এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই প্রতিটি ব্যক্তিকে অবশ্যই এ সম্পর্কে অবগত থাকা উচিত। কিভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হয়,ড্রাইভিং লাইসেন্স কত প্রকার হয়ে থাকে এবং আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স কিভাবে করতে হয় এই সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানতে হলে সম্পূর্ণ লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

পেজ সূচিপত্রঃ

ড্রাইভিং লাইসেন্স কি এবং কেন প্রয়োজন?

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম সম্পর্কে জানার আগে অবশ্যই জানতে হবে যে ড্রাইভিং লাইসেন্স কি এবং কেন প্রয়োজন। এই প্রশ্নের উত্তর জানার পর ড্রাইভিং লাইসেন্স কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে জানতে হবে।


ড্রাইভিং লাইসেন্স হল সাধারণ জনগণের সড়কে এবং সকল জায়গায় গাড়ি চালানোর একটি অনুমতি পত্র। এই অনুমতি পত্রটি বিআরটিএ অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হয়। ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী মোটরযান এর এই অনুমতি পত্রকে ড্রাইভিং লাইসেন্স বলা হয়।

অন্যদিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন কেন যদি এক কথায় বলতে যাই তবে বলা যায়, যে সকল ব্যক্তি পর্যাপ্ত দক্ষতা নিয়ে সড়কে গাড়ি চালাতে পারবে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে এই ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া হয়। রাস্তায় অসংখ্য অগণিত গাড়ি চলাচল করে থাকে। এ সকল সম্পত্তির যেন কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হয় সেইদিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার উপযুক্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ ভাবে গাড়ি চালানো উদ্দেশ্যে এই অনুমতি পত্র প্রদান করে।

সুতরাং বলা যায়, ভাড়া অথবা নিজস্ব গাড়ি চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স কি এবং কেন প্রয়োজন আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি কি লাগে?

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি কি লাগে সে সম্পর্কে সকলের কি জানা রয়েছে? যদি জানা না থাকে তাহলে লাইসেন্সটি করবেন কিভাবে? তাহলে নিশ্চয়ই জানা উচিত। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক।
  • জন্ম নিবন্ধন বা ভোটার আইডি কার্ডের কপি।
  • পাসপোর্ট এর কপি।
  • লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • নন প্রফেশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স
  • শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা সনদ

ড্রাইভিং লাইসেন্স কত প্রকার ও কি কি?

ড্রাইভিং লাইসেন্স একাধিক রকম হয়ে থাকে। ব্যবহার এবং প্রয়োজন ভেদে এর ভিন্নতা রয়েছে। চলুন তাহলে ড্রাইভিং লাইসেন্স কত প্রকার ও কি কি জেনে নেই ।

শিক্ষানবিশ বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সঃসর্বপ্রথম শিক্ষানবিশ বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়। এই লাইসেন্সটি গ্রহণ করার পরে ড্রাইভিং শেখার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং এরপরে পরবর্তী ধাপগুলোতে যেতে হয়। এটি ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম এর প্রথম শর্ত হিসেবে বিবেচিত।

স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সঃ শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে পরবর্তী ধাপে যেতে হয়। যেমন স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স। এটি মূলত সড়কে যানবাহন চালনার মূল অনুমোদন পত্র।প্রথম ধাপে প্রশিক্ষণ নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে এসে পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষ চালককে চিহ্নিত করা হয় এবং উপযুক্তরা স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে থাকে। বিআরটিএ অফিস থেকে প্রদান করা এই লাইসেন্স নিয়ে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে যে কোন রাস্তায় গাড়ি চালানো যাবে।

আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্সঃ আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স বলতে হয়তো বুঝতেই পারছেন দেশের গণ্ডি পার হয়ে অনুমতি পত্রকে বোঝানো হচ্ছে। সরকারি আইন বা বিআরটিএ শুধুমাত্র দেশের ভেতরে গাড়ি চালানোর জন্য অনুমতি দিয়ে থাকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে বাংলাদেশের বাহিরে অর্থাৎ অন্য দেশে যানবাহন চালনা করা যাবে। 

ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম যে একদিনেই পালন করা হবে এমনটি নয়। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ধাপ এর কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। একটু সময় সাপেক্ষ বিষয়। সব কাজ শেষ করার পর আবেদনকারী ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক আছে কিনা বা সঠিকভাবে হয়েছে কিনা সেটি চেক করতে পারবে। অনেকেই জানতে চায় ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম কি কি? বা কত উপায় অবলম্বন করে লাইসেন্স চেক করা যায়? এ বিষয়টি আসলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে যার মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করা সম্ভব।নিয়মগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-
  1. রেফারেন্স নাম্বার দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক বিআরটিএ অফিস থেকে সব ফর্মালিটি পূরণ করার পরে একটি টোকেন দেয়া হয়। টোকেনটিতে একটি রেফারেন্স নাম্বার উল্লেখ থাকে। প্রথমে মোবাইলের মেসেজ অপশন দিয়ে DL লিখে স্পেস দিয়ে উল্লেখিত রেফারেন্স নাম্বারটি লিখে ২৬৯৬৯ এই নম্বরে পাঠিয়ে দিতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবিটি সামনে চলে আসবে।
  2. সফটওয়্যার এর মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক এই পদ্ধতিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার জন্য আপনার মোবাইলে একটি সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হবে। সফটওয়্যারটি DL Cheker ।প্লে স্টোর থেকে সফটওয়্যার নিয়ে এর ভিতরে ইন করতে হবে। এরপর আপনার জন্ম তারিখ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স এর নাম্বার সেখানে বসাতে হবে। সাবমিট করার পরে ড্রাইভিং লাইসেন্সটি বর্তমান অবস্থা আপনার সামনে দেখতে পাবেন

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম

আমরা প্রত্যেকেই জানি, ড্রাইভিং লাইসেন্স এর নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে। মূলত এর মেয়াদকাল হল দশ বছর ।প্রত্যেকটি লাইসেন্সধারী ব্যক্তি কে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে অবশ্যই ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ বা নবায়ন করতে হয়। এক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম এর মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করাও অন্তর্ভুক্ত। ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে হলে নিম্নোক্ত কাগজপত্র গুলো লাগবে-
  • পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন এবং ভোটার আইডি কার্ডের কপি।
  • পাসপোর্ট এবং স্টাম্প সাইজ ছবি
  • লাইসেন্স এর জন্য দেয়া টাকার রশিদ এবং
  • পুলিশ ভেরিফিকেশন এর কাগজ
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স এর কপি
  • সত্যায়িত করা নাগরিক সনদপত্র
উপরোক্ত কাগজগুলো খুবই জরুরী লাইসেন্স নবায়নের জন্য। ড্রাইভিং লাইসেন্স এর কপিটি নিয়ে বিআরটিএ অফিসে সত্যায়িত করতে হবে। সত্যায়িত কপিটি ব্যাংকের টাকা ডিপোজিট করার সময় দিতে হবে।

মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?

প্রতিটি যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম একই হলেও যানবাহন ভিত্তিক এর ফি এর  পরিমাণ ভিন্ন। যেহেতু সাধারণ মানুষেরা সচরাচর মোটরসাইকেল বেশি ব্যবহার করে থাকে তাই অনেকেই প্রশ্ন করে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?

মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে ২৫৪৫ টাকা ফি দিতে হতো। কিন্তু এটি কিছুদিন আগে নির্ধারিত ছিল। বর্তমানে এই টাকার পরিমাণ কে বৃদ্ধি করে ৪১৫৫ টাকা করেছে। অর্থাৎ নির্ধারিত ফি এর মধ্যে ১৬২০ টাকা অন্তর্ভুক্ত করে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য বর্তমানে মোট ৪১৫৫ টাকা লাগে।

আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম

আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম সর্বপ্রথম অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ প্রথমে বাংলাদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে বাংলাদেশ বিআরটিএ অফিস থেকে। 

আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য  ফি প্রদান করে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ফটোকপি সহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এ আবেদন করতে হবে। এর পরবর্তী ধাপগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
  1. রক্তের গ্রুপ, ফিজিক্যাল রিপোর্ট, পেশা এবং নাম ঠিকানা সহ সব বিস্তারিত কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
  2. আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ২৫০০ টাকা জমা দিতে হবে।
  3. সবকিছু নির্ভুলভাবে দেয়া হলে সেগুলো যাচাই এরপরে দশ দিনের মতো সময় লাগবে পারমিট পাওয়ার জন্য।
  4. এরপরেই লাইসেন্সটি হাতে পেয়ে যাবেন।
এই আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মাধ্যমে অন্যান্য দেশগুলোতে যে কোন সড়কে গাড়ি চালাতে পারবেন। কিন্তু যদি কোন রকম কার্যক্রমের ভুল হয়ে থাকে তবে আন্তর্জাতিক লাইসেন্স পাওয়া খুব জটিল হয়ে পড়ে। তাই লক্ষ্য রাখতে হবে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সঠিকভাবে দেয়ার।

ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে কত টাকা জরিমানা দিতে হয়?

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম মেনে প্রতিটি ব্যক্তিকে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়। যদি কোন ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া সড়কে বা পথে গাড়ি চালায় তবে এটি একটি আইনত অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ অদক্ষ ব্যক্তি দ্বারা অন্য কোন ব্যক্তি বা চালক শারীরিকভাবে বা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার কারণে সর্বনিম্ন জরিমানা দিতে হয় ২৫ হাজার টাকা। এর অধিকও হতে পারে। এই নীতিমালাটি হল গণপরিবহন আইন সংক্রান্ত। এছাড়াও লাইসেন্স বিহীন ব্যক্তির নিম্নতম ছয় মাস জেল হতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে কত টাকা জরিমানা দিতে হয় আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম-শেষ কথা

ড্রাইভিং লাইসেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। অনেকেই এটিকে তেমন গুরুত্ব দেয় না দেখা যায়। কিন্ত রাস্তাঘাটে নিরাপদ ভাবে চলাফেরার জন্য এই অনুমতি পত্রটি খুবই প্রয়োজন। ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম মেনে চলা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ করা এবং মেয়াদ শেষে নতুন করে রিনিউ করা একটি সামাজিক দায়িত্ব। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ এবং নিজস্ব সুরক্ষার্থে ড্রাইভিং লাইসেন্স করা জরুরী।

প্রিয় পাঠক বৃন্দ, আজকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম সম্পর্কে আপনাদের সঠিক তথ্য দেয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনারা আইন লঙ্ঘন না করে সকল নিয়মকানুন মেনে চলে নিজ দায়িত্বে ড্রাইভিং লাইসেন্স করে নিবেন। চলার পথে নিজে সুরক্ষিত থাকুন অন্য কেউ নিরাপদে রাখুন। লেখাটি ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে হলে আমাদের ওয়েব সাইটে ভিজিট করবেন। ধন্যবাদ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url