ডুমুর ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা

ডুমুর ফল যেটি খুবই পরিচিত সকলের কাছে। ডুমুরের গাছ যে কোন জায়গায় বলতে গেলে অযত্নের মধ্যে বেড়ে ওঠে। কিন্তু অবহেলিত হলেও এই ফলের উপকারী দিকগুলো জানলে সকলেই অবাক হয়ে যাবে। ঠিক শুনেছেন। যেখানে সেখানে বেড়ে ওঠা ডুমুর ফল বিভিন্ন ধরনের রোগের আরোগ্য লাভের জন্য অনেকে খেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ডুমুরের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে সকলের অবগত থাকা দরকার।

আজকে আমরা ডুমুর ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করতে যাচ্ছি। এই ফলটি কত উপায়ে খাওয়া যায় এবং এর উপকার কি কি সকল বিষয় নিয়ে আজকের আমাদের এই আলোচনা।

আলোচনার বিষয়বস্তু নিচে তুলে ধরা হলো।

পেজ সূচিপত্রঃ

ডুমুর ফল কি?

ডুমুর ফলের নাম জানে না এমন কোন ব্যক্তি হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু ডুমুর ফল কি এটি হয়তো অনেকেই জানেনা। ডুমুর হলো একটি মিষ্টি জাতীয় ফল। এই ফলটি নরম এবং এর ভেতরে অনেকগুলো ছোট ছোট বীজ রয়েছে। এই ফলটির ভেতরের অংশটিও খাওয়া যায়। এটি একটি ভেষজ উদ্ভিদ এবং এর গুণগত মান এর পরিমাণ অনেক বেশি।

ডুমুরের ইংরেজি নাম কি?

আমরা বাংলাদেশে থাকি। তাই আমাদের ভাষায় আমরা ডুমুর ফলকে চিনি। কিন্তু আপনারা কি জানেন ডুমুরের ইংরেজি নাম কি? নিশ্চয়ই সকলেই জানেন না। চলুন তাহলে ডুমুরের ইংরেজি নাম জেনে নিন। ডুমুরের ইংরেজি নাম হল The Fig.

ডুমুরের বৈজ্ঞানিক নাম কি?

ডুমুরের বৈজ্ঞানিক নাম কি তা কি জানা আছে? শুধু ইংরেজি নয় ডুমুরের বৈজ্ঞানিক ও একটি নাম রয়েছে। বিজ্ঞানের ভাষায় ডুমুর কে বলা হয় ফিকাস কারিকা।

ডুমুর রান্না করার পদ্ধতি

ডুমুর ফলকে যে শুধু ফল হিসেবে খাওয়া যায় এমনটি নয়। ডুমুর ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে মানুষ এটিকে বিভিন্নভাবে রান্না করে খায়। ডুমুর রান্না করার পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো-
  1. ডুমুর ভাজি করে খাওয়া যায়।
  2. ডুমুরের ভর্তা খাওয়া যায়।
  3. ডুমুর কোপ্তা খাওয়া যায়
  4. ডুমুরের লাড্ডু তৈরি করা যায়।
  5. ডুমুর দিয়ে চিংড়ি মাছ রান্না করা যায়।
  6. সরিষা দিয়ে ডুমুর রান্না করা যায়।
  7. ডুমুরের নাগেটস তৈরি করা যায়।
  8. আলু ও ডুমুর দিয়ে সবজি রান্না করা যায়।
এগুলো ছাড়াও ডুমুর আরো অনেক পদ্ধতিতে রান্না করে খাওয়া যায়। আর এসব রেসিপি অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে।

ইসলামে ডুমুর ফল কে কি বলা হয়?

ইসলাম ধর্ম এত সুন্দর যেখানে একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আল কোরআনে বেশ কিছু ফলের কথা উল্লেখ রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে ডুমুর ফল একটি। কোরানের ডুমুর ফলকে তিন ফল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ডুমুর ফল নিয়ে পবিত্র কুরআনে একটি সম্পূর্ণ সূরা বর্ণিত রয়েছে। সূরা তিন।
হাদিসের আলোকে ডুমুরকে আনজির ও বলা হয়। পবিত্র কুরআনে ডুমুর নিয়ে শপথ করা হয়েছে এমন একটি আয়াত রয়েছে সূরা তীন এর শুরুতে।
ইসলামে ডুমুর ফলকে কি বলা হয় আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

ডুমুর ফলের উপকারিতা

ডুমুর ফলটি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন এতে থাকা বিদ্যমান পুষ্টিগুণগুলো শরীরের বিভিন্ন ধরনের সাহায্য করে থাকে । ডুমুর ফলের উপকারিতা সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করা হলো-
  • ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • ডুমুর খেলে নখ ও চুল ভালো থাকে।
  • অপুষ্টিজনিত সমস্যা দূর করে থাকে ডুমুর।
  • হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখে।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে থাকে।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
  • ডুমুর হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে।
  • হাড়ের গঠন ভালো রাখে।
  • প্রজনন ব্যবস্থাকে উন্নত করে।
  • কিডনিতে পাথরের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
এক কথায় বলা যেতে পারে ডুমুর অনেক বেশি উপকারী একটি ফল।

ডুমুর ফলের অপকারিতা

প্রতিটি জিনিসের যেরকম উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমন অপকারিতা ও রয়েছে। ডুমুর ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা দুটোই বিদ্যমান। ডুমুর ফলের অপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো-
  • যাদের অ্যালার্জি সমস্যা রয়েছে ডুমুরের আঠা তাদের জন্য ক্ষতিকর।
  • বেশি পরিমাণে ডুমুর খেলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • মাত্র অতিরিক্ত ডুমুর খেলে রক্ত ঘন থেকে পাতলা হয়ে যায়। যার ফলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
  • অধিক পরিমাণ ডুমুর খেলে নাক দিয়ে অনেক সময় রক্ত বের হয়।
  • ডুমুর যেমন ওজন কমাতে সহায়তা করে। ঠিক তেমনি বেশি পরিমাণে খেলে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে ওজন বৃদ্ধি করে।
ডুমুর ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে তারপর সেবন করা উচিত।

ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম

বিভিন্ন উপায়ে ডুমুর খাওয়া গেলেও অনেকে বুঝতে পারে না যে কিভাবে খাবে বা খেতে হয়। তাদেরকে উদ্দেশ্য করে আজকে আমরা ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম নিয়ম সম্পর্কে আপনাদের জানাতে এসেছি। ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম গুলো হল-
  • ডুমুর কেটে সালাত করে খাওয়া যায়।
  • তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়।
  • শুকনো অবস্থায় খাওয়া যায়।
  • কাঁচা অবস্থায় খাওয়া যায়।
  • পাকা অবস্থায় খাওয়া যায়।
  • মধু এবং ডুমুর একত্রে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
  • ডুমুরের সাথে নানা ধরনের সবজি মিশিয়ে রান্না করে খাওয়া যায়।
ডুমুরের ওপর থেকে শুরু করে ভেতর পর্যন্ত প্রতিটি অংশই খাদ্য উপযোগী। তাই সব উপায়েই ডুমুর ফল খাওয়া যায়।

পাকা ডুমুর খাওয়ার উপকারিতা

পাকা অবস্থায় থাকা ডুমুর খাওয়া যায়। পাকা ডুমুর খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। পাকা ডুমুর খাওয়ার উপকারিতা হলো-

  • পাকা ডুমুর খেলে শক্তি সঞ্চালন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • শরীরে হরমোনের কার্যক্রম গুলো ঠিক থাকে
  • ত্বক ভালো রাখতে পাকা ডুমুর অত্যন্ত কার্যকর।

শুকনো ডুমুর খেলে কি হয়?

আপনারা কি জানেন শুকনো ডুমুর খাওয়া যায়? শুকনো ডুমুর খেলে কি হয়? এ সকল প্রশ্নের উত্তর আমরা আপনাদের জানাবো।
  • উষ্ণ ফল হওয়ার কারণে শুকনো ডুমুর যেকোনো সময় না খাওয়াই ভালো।
  • শুকনো ডুমুর খেলে দেহে ফাইবারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
  • শুকনো ডুমুর বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে কাজ করে।
  • শুকনা ডুমুরে রয়েছে অনেক ক্যালসিয়াম যা দেহের ঘাটতি পূরণ করে।

কোন দেশগুলোতে ডুমুর বেশি উৎপন্ন হয়?

ডুমুর সাধারণত উষ্ণ অঞ্চলীয় ফল। যে সকল এলাকায় বা অঞ্চলে অতিরিক্ত গরম সে সকল জায়গায় ডুমুরের উৎপাদন খুব ভালো হয়ে থাকে। বিশ্বব্যাপী এই ফলের চাহিদা অনেক বিস্তৃত। তাই বাণিজ্যিকভাবে ডুমুর চাষ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো  ডুমুর উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। যথা-
  1. কাতার
  2. আফগানিস্তান
  3. মরক্কো
  4. মিশর
  5. পর্তুগাল
  6. ক্যালিফোর্নিয়া

দিনে কয়টা ডুমুর খাওয়া উচিত?

অনেকেই আছে কোন কিছু ভাল লাগলে অনবরত খেয়েই যায়। কিন্তু প্রতিটি খাবারের একটি আদর্শ মান রাখা উচিত। যেটি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ঠিক তেমনি ভাবে ডুমুর খাওয়ারও একটি নির্দিষ্ট মান রয়েছে।
যে কোন সুস্থ মানুষকে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তিন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি পর্যন্ত ডুমুর খাওয়া যেতে পারে। এর ফলে শারীরিক কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
 দিনে কয়টা ডুমুর খাওয়া উচিত আশা করি বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু খাওয়ার আগে ডুমুর ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা যাচাই করে খাবেন।

ডুমুর ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা-শেষ কথা

আমাদের আজকের আলোচনায় আমরা ডুমুর ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে সকল তথ্য আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি। যে কোন খাবারের ভালো খারাপ দিক বিবেচনা করে খাওয়া প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত দায়িত্ব। কারণ স্বাস্থ্য সচেতনতা চিন্তা করে অবশ্যই খাবার গ্রহণ করতে হয়।

প্রিয় পাঠক গণ, আশা করছি ডুমুর ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের মনে আর কোন প্রশ্ন থাকবে না। লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আরো অনেক তথ্য জানার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারেন। ধন্যবাদ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url