১২ ই রবিউল আউয়াল কবে

১২ই রবিউল আউয়াল অর্থাৎ ঈদে মিলাদুন্নবী প্রতিটি মুসলমানের জন্য একটি আনন্দের দিন। এমন কোন মুসলমান ব্যক্তি নেই হয়তো বা এই দিনটি সম্পর্কে অজানা। বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে।

যদিও উদযাপিত করা হয়ে থাকে তারপরও হয়তো অনেকেই এর সম্পূর্ণ তাৎপর্য জানেনা। ১২ ই রবিউল আউয়াল কবে? এই দিনটি কেন পালন করা হয়ে থাকে এবং ২০২৩ সালে কোন দিনটিতে ১২ ই রবিউল আউয়াল পালন করা হবে সে সম্পর্কে আজ আমরা বিস্তারিত আলোচনা করতে যাচ্ছি। ১২ ই রবিউল আউয়াল কবে বিস্তারিত জানতে মনোযোগ দিয়ে আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন।

পেজ সূচিপত্রঃ

১২ ই রবিউল আউয়াল সকল মুসলমান যেহেতু পালন করে থাকে তাই সকলে এই উদযাপনের জন্য নির্দিষ্ট দিনটি কবে সার্চ করে থাকে। আপনাদের সকলের সুবিধার্থে আজকে আমাদের এই লেখাটি।

এবছর ১২ ই রবিউল আউয়াল হল ২৮ শে সেপ্টেম্বর ২০২৩। অর্থাৎ ১৪৩০ সন এর ১৩ই আশ্বিন এবং ১৪৪৫ হিজরী রোজ বৃহস্পতিবার। এই দিনটিতে ১২ই রবিউল আউয়াল অর্থাৎ ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা হবে।
১২ ই রবিউল আওয়াল কবে আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

১২ ই রবিউল আউয়াল কেন পালন করা হয়?

ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা আরবি মাসের বর্ষপঞ্জি হিসাব করে থাকে। সেই দিক থেকে রবিউল আউয়াল মাসটি হলো আরবি হিসেবে তৃতীয় মাস। এই মাসে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম। পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে নবীর জন্ম উপলক্ষে এই দিনটি বিভিন্ন রাষ্ট্রের পালন করা হয়ে থাকে।


রবি অর্থ "বসন্ত" এবং আউয়াল অর্থ "প্রথম"। অর্থাৎ রবিউল আউয়াল অর্থ প্রথম বসন্ত। এই রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর জন্ম হয়েছিল। তাই এই মাসটি অনেক ফজিলতপূর্ণ।
১২ ই রবিউল আউয়াল কেন পালন করা হয় আশা করি উত্তরটি পেয়ে গেছেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী ইতিহাস

ঈদ মানে আনন্দ। আর মিলাদ অর্থ জন্মকাল বা জন্মদিন। অর্থাৎ ঈদে মিলাদুন্নবী অর্থ জন্মদিনের আনন্দ বা আগমনের খুশি। প্রত্যেকটি মুসলমানের জন্য নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পৃথিবীতে আগমন অত্যন্ত খুশির । তাই মুসলিম দেশগুলোতে সকলেই নবীর এই আগমনকে বিভিন্নভাবে পালন করে থাকে। ইসলামের প্রচার থেকে শুরু করে ইসলামী তরিকায় জীবন যাপন করা সবকিছুই আমাদের নবী আমাদের বলে গিয়েছেন। আমরা সেই নবীর উম্মত এবং তিনি আমাদের জন্য আদর্শ। তাই প্রত্যেককেই ঈদে মিলাদুন্নবীর ইতিহাস সম্পর্কে জানা অবশ্যই উচিত। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে জেনে নেয়া যাক।

ইসলাম পর্যালোচনা করে জানা যায়, চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে শিয়াদের উদ্যোগে মুসলমানদের ধর্মীয় দুইটি ঈদ ব্যতীত অন্য উৎসব পালন করা শুরু হয়। বাগদাদের প্রধান প্রশাসক এবং প্রধান নিয়ন্ত্রক ৩৫২ হিজরীতে আশুরাকে শোক দিবস হিসেবে এবং গাদিরে খুম পালন করার নির্দেশ দেন।

এছাড়াও মিশরের ফাতেমিয় শাসকেরা নবী জন্মদিন উপলক্ষে ১২ ই রবিউল আউয়াল অর্থাৎ ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা শুরু করে যেটি প্রচলন হয় চতুর্থ শতাব্দীতে। মূলত খলিফা মুইজ  দিনিল্লাহ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এবং তার পরিবার অর্থাৎ তার মেয়ে, জামাই, দুই নাতি সহ সকলের জন্মদিন উদযাপন করতেন। এই প্রচলনটি তিনি শুরু করেন।

পরবর্তীতে আফজাল ইবনু আমিরুল জাইস এই প্রথা বন্ধ করে দেন কারণ তিনি মিশরের ক্ষমতা দখল করেছিলেন। মূলত ঈদে মিলাদুন্নবী স্থায়ীভাবে পালনের উদ্যোক্তা হল ইরাকের আবু সাঈদ মুজাফফর উদ্দিন। তিনি প্রকৃত ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের প্রবর্তক।

এছাড়াও তিনি এটির পক্ষে দলিল ও পেশ করেন। পবিত্র আল-কুরআনের সূরা আল ইমরান ৮১ আয়াতে যার উল্লেখ রয়েছে এবং সূরা ইউনুসের ৫১ এবং ৫২ নম্বর আয়াতেও বলা হয়েছে। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মানবজাতির হেদায়েতের জন্য এবং ইসলাম প্রচারের জন্য নবী-রাসূল মহান আল্লাহ তা'আলা প্রেরণ করবেন। নিঃসন্দেহে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

নানা ধরনের বাধা-বিপত্তির এবং তর্কের শেষে ঈদে মিলাদুন্নবীকে উদযাপন স্বীকৃতি দেয়া হয়। বাংলাদেশ এটি একটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মুসলিমদের জন্য।

রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন কোন দেশগুলোতে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা হয়?

ওপরের আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে, ১২ই রবিউল আউয়াল কবে? বারই রবিউল আউয়াল কেন পালন করা হয় এবং ঈদে মিলাদুন্নবীর ইতিহাস কি? এখন আজকের এই আলোচনায় আরো থাকছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন কোন দেশগুলোতে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত।

শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে। এক নজরে দেখে নিন কোন কোন দেশগুলোতে এই দিনটি উদযাপিত হয়।
  • বাংলাদেশ
  • ব্রুনাই
  • মিশর
  • ভারত
  • ইন্দোনেশিয়া
  • আফগানিস্তান
  • ইরাক
  • মালয়েশিয়া
  • ইরান
  • নাইজেরিয়া
  • বাহরাইন
  • লেবানন
  • মরক্কো
  • কুয়েত
  • সুদান
  • পাকিস্তান
  • ওমান
উপরোক্ত দেশগুলোতে এই বারই রবিউল আওয়াল পালন করার জন্য সরকারি ছুটি বরাদ্দ রয়েছে। যদিও এ সকল দেশের ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা হয়। তবে প্রতিবছর একই দিনে ভাগ পড়েনা। কারণ প্রতিবছরে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ একেক সময় হয়ে থাকে। তাই ১২ ই রবিউল আউয়াল কবে তার নির্দিষ্ট কোন দিন উল্লেখ করে বলা যাবে না।

রবিউল আউয়াল মাসে রোজা রাখার নিয়ম

সকল মুসলমান জানে ১২ ই রবিউল আউয়াল কবে। রবিউল আওয়াল মাসে রোজা রাখতে হয়। এই রোজাটি যে প্রতিটি ব্যক্তির জন্য ফরজ এমনটি নয়। তবে রবিউল আউয়াল মাস ফজিলত পূর্ণ। এটি মুসলমান ব্যক্তির উপর নির্ভর করে যে সে রোজা রাখবে কিনা। কারণ যে কোনো ইবাদতের মাধ্যমেই ফজিলত পাওয়া যায়। কিন্তু অনেকেই এই রোজাটি করে থাকে। আবার এমনও অনেক ব্যক্তি রয়েছে রবিউল আওয়াল মাসে রোজা রাখার নিয়ম সম্পর্কে জানেনা। তাই সঠিক নিয়মটি নিয়েই আমরা আলোচনা করব।

যদি কোন ব্যক্তি রবিউল আউয়াল মাসে রোজা রাখতে চায় তবে তাকে তিনটি রোজা করতে হবে। রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখের আগে। অর্থাৎ, ইংরেজি মাসের ১০,১১ ও ১২ তারিখে।

রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব

রবিউল আউয়াল মাসটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই এর পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে। অনেকেই জানেনা এই রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব কতটুকু।
  1. এই মাসে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর জন্ম।
  2. এই মাসে নবী করিম সাঃ মা খাদিজাকে বিয়ে করেছিলেন।
  3. এই মাসেই আমাদের নবী মক্কা থেকে হিজরত করার উদ্দেশ্যে মদিনায় যান।
  4. রবিউল আউয়াল মাসে আমাদের নবীর উপর আল্লাহর দেয়া রিসালাতের দায়িত্ব পরিপূর্ণ হয়।
ওপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, এক কথায় বলতে গেলে রবিউল আউয়াল মাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

১২ ই রবিউল আউয়াল কবে-শেষ কথা

১২ ই রবিউল আউয়াল কবে এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। মানবতার প্রতীক, ইসলাম প্রচার এবং মানবজাতির অন্যতম আদর্শ হলো মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ। পবিত্র রবিউল মাসে তার জন্ম। প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান এর জন্য তাই ১২ ই রবিউল আউয়াল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই মাসটিতে ইসলামের ইতিহাসের অনেক কিছুই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা মুসলিমদের জন্য জানা খুবই জরুরী। ফজিলত পূর্ণ এই মাসে নবীর জন্মদিন উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিনটিকে খুবই আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করা হয়।

প্রিয় পাঠক বৃন্দ, আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা ১২ ই রবিউল আউয়াল কবে এবং এর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করছি যারা অজানা ছিলেন এ বিষয়ে তাদের আমরা স্পষ্ট ধারণা দিতে পেরেছি। ভালো লাগলে শেয়ার করবেন। কারন প্রতিটি মুসলমানকে ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। ধন্যবাদ।




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url