কক্সবাজার এর দর্শনীয় স্থানসমূহ

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পরিচিত একটি পর্যটন কেন্দ্র হলো কক্সবাজার। কক্সবাজারের নাম শুনতে ভ্রমণ পিপাসু ব্যক্তিদের মনে অন্য রকমের অনুভূতি জেগে ওঠে। কক্সবাজার হল বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র যা অবস্থিত আমাদের এই বাংলাদেশে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর অসংখ্য এবং অগণিত পর্যটকেরা আসে এর সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য।

কক্সবাজারে শুধু দেখার মত সমুদ্র সৈকত রয়েছে এমনটি নয়। অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে এখানে। সবকিছু মিলিয়ে জায়গাটি অন্যরকম জনপ্রিয় বলা যায়। কক্সবাজারে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো শীতের শুরুর দিকে। অর্থাৎ নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে। এই সময়ে সমুদ্র অনেক বেশি উপভোগ্য থাকে।

আজকে আমরা কক্সবাজার এর দর্শনীয় স্থানসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এমন অনেকেই আছে যারা কক্সবাজারে যেতে পরিকল্পনা করছে এবং সেখানে অবস্থিত অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে জানতে চায় তাদেরকে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য আজকে আমাদের এই লেখাটি। কক্সবাজার এর দর্শনীয় স্থানসমূহ সম্পর্কে জানতে হলে লেখাটি সম্পূর্ণ পড়তে থাকুন।

পেজ সূচিপত্রঃ

কক্সবাজার এর দর্শনীয় স্থান কি কি?

কক্সবাজার এর দর্শনীয় স্থানসমূহ সম্পূর্ণ বর্ণনা করা যদিও সম্ভব নয়। তবে সেখানে অবস্থিত বিখ্যাত বেশ কিছু স্থান রয়েছে যেগুলো ঘুরতে যাওয়ার জন্য অন্যতম। যারা কক্সবাজারে যাওয়ার কথা ভাবছে তাদের অবশ্যই আগে সেখানে যেসব জায়গা গুলো জনপ্রিয় সেগুলো জানা উচিত। চলুন তাহলে কক্সবাজার এর দর্শনীয় স্থানসমূহ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
  1. কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতঃ কক্সবাজার এর দর্শনীয় স্থানসমূহ পর্যালোচনা করতে গেলে সর্বপ্রথম হল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। সমুদ্রের ভিন্ন ভিন্ন নামে এবং ভিন্ন রকম সৌন্দর্য হল সমুদ্রের প্রতিটি বিচ। কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে সমুদ্রের এক একটি পাড়ের এক এক রকম নাম দেয়া হয়েছে। অসম্ভব সুন্দর সমুদ্র সৈকতটি দেখতে পর্যটকেরা প্রচুর অর্থ ব্যয় করে থাকে।
  2. মহেশখালী দ্বীপঃ কক্সবাজারে আরেকটি বিখ্যাত এবং সুপরিচিত পর্যটন কেন্দ্র হল মহেশখালী দ্বীপ। বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ বলে মহেশখালীকে আখ্যায়িত করা হয়। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সমুদ্রের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই দ্বীপে স্পিড বোর্ডের সাহায্যে যেতে হয়।
  3. রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডঃ কক্সবাজার শহরে ঝাউ তলায় রয়েছে রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড নামে একটি ফিশ মিউজিয়াম এবং একুরিয়াম। যেখানে রয়েছে শত শত সামুদ্রিক মাছের মেলা। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই জায়গাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কক্সবাজারে গিয়ে এটি পরিদর্শন না করলেই নয়।
  4. রামু রাবার বাগানঃ বাংলাদেশের কয়েকটি দর্শনের স্থানের মধ্যে রামু রাবার বাগান জায়গা করে নিয়েছে। উঁচু নিচু পাহাড়ের টিলায় রাবার চাষ এবং যেদিকে চোখ যায় গাছপালা ছাড়া আর কিছুই চোখে পরেনা। এটি শুধু ভ্রমণের স্থান নয় প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন হয় রাবার চাষের মাধ্যমে।
  5. সোনাদিয়া দ্বীপঃ সোনাদিয়া দ্বীপ অবস্থিত মহেশখালী দ্বীপের দক্ষিণে। এটি আয়তনে মাত্র নয় বর্গ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থিত। ছোট এবং খুব সুন্দর একটি দ্বীপ যেখানে লাল কাঁকড়ার মেলা বসে। 
  6. ডুলাহাজরা সাফারি পার্কঃ  এই পার্কটি অবস্থিত চকরিয়া থানা থেকে ১০ কিলোমিটার যা মূলত কক্সবাজার শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে। প্রথমে এটি হরিণের প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে চালু হলেও পরবর্তীতে এতে নানা প্রজাতির পশু পাখি রাখা হয়। ভ্রমণের জন্য খুব সুন্দর একটি বৈচিত্র্যময় জায়গা।
  7. হিমছড়িঃ কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে হিমছড়ি পরিদর্শন না করলে কোন ভাবেই হয় না। বিশাল একটি পাহাড় যেখানে সুবিশাল সিঁড়ি তৈরি করা রয়েছে। সিঁড়িবে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করলে সেখান থেকে সমুদ্র অবলোকন করা যায় যা অপরূপ সুন্দর। এই সৌন্দর্য দেখার জন্য পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার কষ্টটা একেবারেই মূল্যহীন।
  8. সেন্ট মার্টিনঃ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হলো সেন্ট মার্টিন যা দেশের সর্ব দক্ষিনে অবস্থিত। কক্সবাজারে গিয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যাবেন না এটা মেনে নেওয়া যায় না। অনন্য সুন্দর সেন্টমার্টিন কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুরে শেষ করে দেয়া যায়। কারণ এর আয়তন মাত্র ১৭ বর্গকিলোমিটার। সেখানে রাতে অবস্থান করার মত ব্যবস্থা রয়েছে। রাতে সৌন্দর্য সেন্ট মার্টিনে আরও অপরূপ। স্থানীয় ভাষায় দ্বিপটিকে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়। কারণ সেখানে বিখ্যাত হল ডাব।
  9. ছেঁড়া দ্বীপঃ সেন্টমার্টিন থেকে সামান্য কিছু দূরে অর্থাৎ ৫ কিলোমিটার পরে ছেঁড়া দ্বীপ অবস্থিত। পাথরে আঁচড়ে সমুদ্রের নীল পানি মোহনীয় এক দৃশ্য প্রকাশ করে। সেন্ট মার্টিন থেকে স্পিডবোর্ড ও নৌকা সাহায্যে এই দ্বীপে যেতে হয়।
  10. মারমেইড ইকো রিসোর্টঃ কক্সবাজার শহরে অবস্থিত মারমেইড ইকো রিসোর্ট অবস্থিত। এর বিখ্যাত একটি জিনিস হল এটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি। বাশ এবং ছনের তৈরি ছোট বড় কুঠির এবং গাছপালা দ্বারা এক প্রাকৃতিক দৃশ্য মন কেড়ে নেয়ার মত। থাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে।

কক্সবাজার যাওয়ার উপযুক্ত সময় কখন?

কক্সবাজার এর দর্শনীয় স্থানসমূহ সম্পর্কে তো আমাদের জানা হল। এখন তাহলে নিশ্চয়ই জানা উচিত কক্সবাজার যাওয়ার উপযুক্ত সময় কখন? এ সম্পর্কে। কারণ উপযুক্ত সময়ে না গেলে সম্পূর্ণ সৌন্দর্য কিভাবে উপভোগ করবেন?
কক্সবাজার যাওয়ার উপযুক্ত সময় শুরু হয় অক্টোবর মাস থেকে শুরু করে মার্চ পর্যন্ত। এক কথায় গরমের শেষে এবং সম্পূর্ণ শীত জুড়ে কক্সবাজার সবচেয়ে বেশি সুন্দর অবস্থায় থাকে। সারা বছর যদিও সেখানে পর্যটকেরা ঘুরতে যায় তবে সবচেয়ে বেশি পাড়ি জমায় এই সময়টিতে। এই সময়ে সেখানে পরিবেশ এবং আবহাওয়া খুব সুন্দর থাকে। আপনারা যদি কক্সবাজারে যেতে চান তাহলে অবশ্যই উপযুক্ত সময় নির্বাচন করে যাবেন। না হলে পরবর্তী মনে কিনারা থেকে যাবে।

কক্সবাজার কিসের জন্য বিখ্যাত?

কক্সবাজার জায়গাটিতে যদিও প্রতিটি ব্যক্তি ঘুরে আসেনি তবে এর নাম শুনেনি এমন কোন ব্যক্তি হয়তো বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। চলুন তাহলে আজ আমরা আরেকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। কক্সবাজার কিসের জন্য বিখ্যাত? এটি কি সবাই জানে? না, প্রত্যেকেই জানে না। তবে জেনে নেয়া যাক।
কক্সবাজার বিখ্যাত সেখানে অবস্থিত সুবিশাল এবং বিশ্বের বৃহৎ সমুদ্র সৈকতের কারণে। এরপর যদি এর খ্যাতি প্রকাশ করি তাহলে বলতে হবে মৎস্য ভান্ডার এবং সেখানকার বেশ কিছু খাবার দাবারের জন্য।
এছাড়াও সেখানে অবস্থিত রয়েছে অগণিত পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন কেন্দ্র গুলোকে ঘিরে কক্সবাজার শহর অন্যতম জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত। আর এর খ্যাতি শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয় সমগ্র বিশ্বই জানা রয়েছে।

কক্সবাজারের বীচের নাম

কক্সবাজারে বিশাল সমুদ্রকে ঘিরে বিভিন্ন বীচ গড়ে উঠেছে যেগুলো ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। এক একটি বীচের সৌন্দর্য ভিন্ন। বেশ কিছু সুপরিচিত বীচ রয়েছে যেগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং পরিচিতি অনুযায়ী সেখানে গড়ে উঠেছে ফাইভ স্টার হোটেল সমূহ যেখানে সব ধরনের সুবিধা ব্যবস্থা রয়েছে। চলুন তাহলে কক্সবাজারের বীচের নাম জেনে আসা যাক।
  1. ইনানী বীচ।
  2. লাবনী পয়েন্ট
  3. সুগন্ধা বীচ।
  4. কলাতলী পয়েন্ট।
  5. হিমছড়ি।

কক্সবাজার এর দর্শনীয় স্থানসমূহ-শেষ কথা

বাংলাদেশের সবচেয়ে সৌন্দর্যপূর্ণ ভ্রমণের স্থান বলতে গেলে সর্বপ্রথম জায়গা দখল করে নিয়েছে কক্সবাজার। কক্সবাজারে অগণিত জায়গা রয়েছে ঘুরতে যাওয়ার জন্য। এক একটি স্থান একেকটি ইতিহাস প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন রকম সৌন্দর্যও। কক্সবাজারে ঘুরতে যাওয়ার সময় এখনই। তাই ব্যাগ গুছিয়ে পরিবার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন অমায়িক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য।

আজকে আমাদের লেখাটি হল কক্সবাজার এর দর্শনীয় স্থানসমূহ নিয়ে। আপনাদের ভ্রমণের সুবিধার্থে আমরা যথেষ্ট তথ্য প্রদান করার চেষ্টা করেছি। যেন আপনারা সব কিছু জেনে খুব সহজে ঘুরে আসতে পারেন। লেখাটি ভাল লাগলে অবশ্যই অন্যদের সাথে শেয়ার করবেন। আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে ইনবক্সে জানিয়ে দিবেন। যত দ্রুত সম্ভব আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আপনাদের ভ্রমণ শুভ হোক।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url