কিডনি ভালো রাখার উপায়

মানুষের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো কিডনি। কিডনিতে কোন সমস্যা দেখা দিলে তা কিন্তু সহজে ধরা দেয় না। আর যখন ধরা পড়ে তখন বিশাল আকৃতি ধারণ করে নেয়। অনেক সময় দেখা যায় সমস্যাটির মোকাবেলা করা সম্ভবপর হয় না। তাই প্রতিটি সুস্থ এবং অসুস্থ ব্যক্তিকে কিডনি ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে অবশ্যই জানতে হবে।

যারা নানা ধরনের কিডনির সমস্যায় ভুগছেন তাদেরকে যথারীতি চিকিৎসা নিতে হবে। অন্যদিকে যারা এখনো সুস্থ আছেন তারা সচেতন হয়ে যাবেন। আমাদের আজকের আলোচনায় থাকতে কিডনি ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত।

কিডনি ভালো রাখতে হলে কি কি করণীয়? কোন অভ্যাস গুলো বর্জন করতে হবে এবং খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত সেসব বিষয় নিয়ে এখন আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি। চলুন তাহলে আর দেরি না করে কিডনি ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। এ সকল বিষয়গুলো জানতে হলে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে লেখাটি পড়তে থাকুন।

পেজ সূচিপত্রঃ

কিডনির সমস্যা হলে কি কি লক্ষণ দেখা দেয়?

কিডনি ভালো রাখার উপায় জানার আগে অবশ্যই জানা প্রয়োজন কিডনির সমস্যা হলে কি কি লক্ষণ দেখা দেয়। কিডনিতে কোন সমস্যা হলে হঠাৎ করে বোঝা যায় না।যখন সমস্যা দৃঢ় হয়ে যায় তখন বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তা সামনে আসে।
কিডনি সমস্যায় যে লক্ষণ গুলো দেখা যায় সেগুলো হল-
  1. প্রসাবের রং পরিবর্তন হয়, প্রসাবের সময় জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে এবং ব্যথাও অনুভব হয়।
  2. প্রসাবের চাপ খুব বেশি এবং কম হলে বুঝতে হবে এটি কিডনি সমস্যার লক্ষণ।
  3. হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভূত হয়।
  4. পেটের ঠিক উল্টোপাশে বা পিঠের নিচের দিকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করা।
  5. শরীরের যে কোন ত্বকে বা চামড়ায় ফুসকুড়ি হওয়া বা র‍্যাশ দেখা দেয়।
  6. শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যেতে পারে।
  7. প্রতিনিয়ত ক্লান্তি বোধ হয়ে থাকে।
  8. প্রস্রাবের সাথে রক্ত প্রবাহিত হওয়া।
  9. বমি বমি ভাব মনে হয়।
  10. অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়া।
  11. মাথা ব্যথা করা।
  12. যে কোন কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া।
  13. প্রতিনিয়ত শরীরের ঠান্ডা অনুভূত হওয়া।
  14. ঘুম কমে যাওয়া।
  15. শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
  16. খাবারের প্রতি অনীহা সৃষ্টি।
  17. পেশীতে টান ধরা।
  18. নিশ্বাস নিতে সমস্যা।
উপরোক্ত লক্ষণগুলো যদি কারো মধ্যে পরিলক্ষিত হয় তাৎক্ষণিক বুঝে নিতে হবে যে তিনি কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। কিডনি সমস্যার জন্য এগুলো উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।

কিডনি ভালো রাখতে যে খাবারগুলো খাবেন

কিডনি ভালো রাখার উপায় গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাবার। কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো কিডনিতে ভালো রাখার ক্ষেত্রে অপরিসীম ভূমিকা রাখে। তাহলে একটু জেনে নেয়া যাক কিডনি ভালো রাখতে যে খাবারগুলো খাবেন সেগুলো সম্পর্কে।
  • পেঁয়াজঃ পেঁয়াজ রক্ত থেকে চর্বি দূর করে থাকে। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এছাড়াও পেয়াজে থাকা পটাশিয়াম কিডনিকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এক কথায় বলতে গেলে পেঁয়াজ কিডনিকে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।
  • মাছঃ আমরা সবাই জানি মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড বিদ্যমান। খাবারের তালিকায় বেশিরভাগ মাছ রাখা জরুরি। মাছ নিঃসন্দেহে কিডনির জন্য উপকারী।
  • ডিমের সাদা অংশঃ ডিমের সাদা অংশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। এটি কিডনির স্বাভাবিক কার্যকলাপ ঠিক রাখে। অ্যামিনো এসিড এবং ফসফরাসের বিদ্যমান থাকায় ডিমের সাদা অংশ কিডনিতে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
  • বাঁধাকপিঃ বাঁধাকপিতে রয়েছে ফলিক এসিড সহ ভিটামিন সি, বি এবং কে যা কিডনির উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে।
  • রসুনঃ রসুন এ রয়েছে উচ্চ মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। রসুন দেহে প্রদাহ দূর করে এবং কিডনিকে সুস্থ রাখে।
  • আপেলঃ ভিটামিনযুক্ত এবং পচন রোধক উপাদান থাকার কারণে আপেল প্রসাব স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে এবং কিডনিকে ভালো রাখে।
  • লেবুঃ লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি। লেবু কিডনিতে পাথর তৈরি রোধ করে। কিডনিতে পাথর হলেও লেবু সেগুলো ভেঙে দিতে সক্ষম।
  • শসাঃ শসা খেলে কিডনি ভালো থাকে এবং প্রসাব ঠিক থাকে। শসা পানির একটি উৎস কারণ এতে ৯৫ ভাগ পানি রয়েছে যেটি কিডনির ক্ষেত্রে খুবই উপকারী।
  • বিটমূলঃ বিটমূল রক্তের স্বাভাবিক সঞ্চালনকে ঠিক রাখে এবং উচ্চ রক্তচাপকে স্বাভাবিক মাত্রায় রাখে। এছাড়াও ভিটামিনের উপস্থিতির কারণে এটি কিডনির উন্নতি ঘটায়।
  • দারচিনিঃ রক্তের শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে কিডনির সমস্যা হয়। আর দারচিনি রক্ত থেকে শর্করার পরিমাণ হ্রাস করে এতে কিডনি সুস্থ থাকে।
  • স্ট্রবেরিঃ স্ট্রবেরিতে থাকা উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন কিডনির ফাংশন কে উন্নত করে। এছাড়াও প্রসাবের নানা ধরনের সমস্যা থাকলে সেটা দূর করে দেয়।
  • অলিভ অয়েলঃ অলিভ অয়েলে থাকা ফ্যাটি এসিড কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে। চাইলে রান্নাতেও অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।
  • লাল আঙ্গুরঃ বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কারণে কিডনিতে এবং প্রস্রাবের নালিতে সমস্যা দেখা দেয়। লাল আঙ্গুরের বিদ্যমান উপাদানগুলো এসব ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং প্রসাবকে স্বাভাবিক করে কিডনি ভালো রাখে।
  • হলুদঃ হলুদের রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান যা ত্বককে ভালো রাখে এবং কিডনিকে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দেয়।
  • আদাঃ দৈনিক সামান্য আদা খেত করে রস করে খেলে কিডনির জন্য খুবই উপকারী। আদা কিডনিকে পরিষ্কার রাখে এবং এর কার্যক্রম সচ্ছল রাখতে সাহায্য করে।
  • সবুজ শাকসবজিঃ সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং ফলিক এসিড। এছাড়াও ফাইবারের উপস্থিতির কারণে সবুজ শাকসবজি কিডনির বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দূর করে।
  • চেরিঃ চেরিতে রয়েছে ভিটামিন কে এবং ম্যাগনেসিয়াম। চেরি কিডনির ভালো রাখার জন্য মারাত্মকভাবে সাহায্য করে থাকে।
আরো পড়ুনঃ সিস্ট হলে কি সমস্যা হয়

কোন খাবার গুলো কিডনির ক্ষতি করে?

আমাদের দেশে দিন দিন কিডনি রোগের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একটু ভাবুন তো এর কারণ কি হতে পারে? ক্ষতিকর খাবার। হ্যাঁ, এটাই হতে পারে এটি অন্যতম কারণ। কিডনি ভালো রাখার উপায় জানার প্রয়োজন পড়বে তখনই যখন আপনি এই সমস্যায় পড়বেন। তবে এই সমস্যায় না পড়ার জন্য অবশ্যই জানতে হবে যে কোন খাবারগুলো খেলে কিডনির ক্ষতি হয়। একটুতে সাবধান হওয়া ভালো। কোন খাবার গুলো ক্ষতি করে জেনে নিন।
  1. লবণঃ দৈনিক খাবারে আমরা যে লবণ খেয়ে থাকি সেটির একটি স্বাভাবিক মাত্রা থাকা উচিত। কারণ অতিমাত্রায় লবণ গ্রহণ করা কিডনির পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। লবণ রক্তচাপ বৃদ্ধি করে যার প্রভাব পড়ে কিডনির উপরে।
  2. কমলাঃ কমলা পছন্দ করে না এমন মানুষ কমই রয়েছে। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি বিদ্যমান রয়েছে কমলাতে। কিন্তু শরীরে এর মাত্রা বেশি হলে কিডনিতে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়াও কমলা তে থাকা পটাশিয়াম কিডনিতে গিয়ে জমা হয়। অতিরিক্ত পটাশিয়াম কিডনির জন্য ক্ষতিকর।
  3. মাংসঃ সুস্বাদু একটি খাবার মাংস। মাংস খেলে হজম হতে সময় লাগে। হজমের সমস্যা দেখা দিলে কিডনির উপর প্রেসার পড়ে যা কিডনি সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যেকোনো ধরনের রেড মিট কিডনির জন্য ক্ষতিকর।
  4. কলাঃ পটাশিয়াম সমৃদ্ধ কলা শরীরের জন্য নিঃসন্দেহে উপকারী। তবে অতিরিক্ত পটাশিয়ামের ফলে কিডনির ক্ষতি হয়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে কলা খেতে হবে। আর যদি কিডনির সমস্যা থাকে তাহলে কলা না খাওয়াই ভালো।
  5. কোল্ড ড্রিংকঃ বর্তমানে খাবারের সাথে কোল্ড ড্রিংক না হলে বেমানান হয়ে যায়। কিন্তু এটি যে কতটুকু ক্ষতিকর তা আমরা জানি না। দৈনিক একজন ব্যক্তিকে অন্তত আট গ্লাস পানি খেতে হয়। কিন্তু যারা অতিরিক্ত ঘেমে যায় তাদেরকে এর পরিমান আরো বাড়াতে হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনি ভালো থাকে। অন্যদিকে কোলড্রিংস বা অন্য কোন কোমল পানীয় ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস করে থাকে।
  6. বাদামঃ অতিরিক্ত পরিমাণ বাদাম কিডনির জন্য ক্ষতিকর। বাদামে অক্সালেট বিদ্যমান থাকায় এটি পরিমাণে বেশি গ্রহণ করলে কিডনিতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়,
  7. দুধঃ দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শরীরে সরবরাহ হলে এটি কিডনিতে পাথর তৈরি করে থাকে। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে দুধ পান না করাই ভালো।
  8. কফিঃ অতিরিক্ত কফি খেলে শরীরের রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। যার প্রভাব দেখা দেয় কিডনিতে। অধিক পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে কিডনিতেপাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ এটি কিডনির পানি শোষণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
  9. ফ্রজেন খাবারঃ ফ্রোজেন বা প্রক্রিয়াজাত করা খাবার হতে পারে চর্বি এবং সোডিয়ামে পরিপূর্ণ যেটি কিডনির উপরে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে।
  10. মেয়নেজঃ ফাস্টফুডে ব্যবহৃত মেয়নেজ উচ্চ ক্যালোরিতে ভরা। যা নিঃসন্দেহে কিডনির জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই বলে যে খাওয়া যাবেনা এমনকি নয়। কম ক্যালরিযুক্ত মেয়োনিজ গ্রহণ করুন। কারণ খাবারেরও একটি নির্দিষ্ট কাম্য মাত্রা থাকা উচিত।

কিডনি ভালো রাখতে যে অভ্যাসগুলো ত্যাগ করবেন

কিডনি ভালো রাখতে হলে কিছু কিছু বদভ্যাস ত্যাগ করুন। কারণ সামান্য কিছু খারাপ অভ্যাসের কারণে শারীরিক সুস্থতা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কিডনি ভালো রাখতে যে অভ্যাসগুলো ত্যাগ করবেন সেগুলো হলো-
  • অ্যালকোহল বা মদপান থেকে বিরত থাকুন।
  • প্রসাবের চাপ কখনো ধরে রাখবেন না।
  • রাত জাগা থেকে বিরত থাকুন।
  • উচ্চমাত্রার লবণ গ্রহণ করবেন না।
  • উচ্চমাত্রায় চিনি গ্রহণ করবেন না।
  • অধিক ক্যালরি যুক্ত খাবার বর্জন করুন।
  • ঘন ঘন ব্যথার ওষুধ গ্রহণ করবেন না।
  • অতিরিক্ত কফি পান থেকে বিরত থাকুন।
  • কম পানি খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

কিডনি রোগীর জন্য ব্যায়াম

কিডনি রোগীর জন্য ব্যায়াম খুবই উপকারী। কিছু কিছু ব্যায়াম আছে যেগুলো নিয়মিত করার ফলে কিডনির নানা সমস্যা দূর হয়ে যায়। যেমন-
  1. ব্রিচ কোচ ঃ এই ব্যায়াম করার জন্য চিৎ হয়ে শুয়ে দুই পা একসাথে ভাঁজ করে কয়েক ইঞ্চি গ্যাপ রেখে হাত দিয়ে পায়ের গোড়ালি ধরতে হবে। যতক্ষণ ধরে রাখা যায় আর হিপ তুলে রাখতে হবে।
  2. টু লেগ ফরওয়ার্ড ব্রেন্ডঃ এক্ষেত্রে প্রথমে পা দুটো টানটান করে বসতে হবে। এরপর দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের আঙ্গুল ধরে মাথা হেলিয়ে যতক্ষণ সম্ভব থাকতে হবে।
  3. বোট কোচ ঃ এই ব্যায়ামে নিচে বসতে হবে। এরপর আস্তে আস্তে পা দুটো উপরের দিকে তুলে এরপর হাত দুটো উপরের দিকে তুলতে হবে। এটি কিডনির জন্য যথেষ্ট উপকারী।
  4. কোবরা বোস্টঃ এই ব্যায়ামটির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উপুর হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। এরপর দুই হাতের তালু নিচের দিকে চাপ দিয়ে ধীরে ধীরে মাথাটা উপরের দিকে তুলতে হবে।
উপরিক্ত ব্যায়ামগুলো কিডনি ভালো রাখার উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম সাহায্য করে।

কিডনি ভালো রাখতে যে ফলগুলো খাবেন

কিডনিকে ভালো রাখে এমন কিছু ফল রয়েছে।  এই ফলগুলো সাধারণত আমরা সকলেই খেয়ে থাকি। কিডনি ভালো রাখতে যে ফলগুলো খাবেন সেগুলো হলো-
  • লেবু।
  • কমলা লেবু।
  • মাল্টা।
  • বেদানা।
  • বিভিন্ন রকম বেরি ফল।
  • জাম্বুরা ও
  • আঙ্গুর।

কোন সবজি গুলো কিডনি ভালো রাখে?

কিডনি ভালো রাখার ক্ষেত্রে কিছু কিছু সবজির কোন বিকল্প নেই। কিডনি ভালো রাখার উপায় আলোচনায় আজকে আমরা আলোচনা করব কোন সবজি গুলো কিডনি ভালো রাখে? এ বিষয়টি নিয়ে। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে জেনে নেওয়া যাক।
  • পালং শাকঃ কিডনি পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে পালং শাক। কিডনির জন্য এটি খুবই ভালো।
  • লাল ক্যাপসিকামঃ লাল ক্যাপসিকাম এ প্রচুর পরিমাণে লাইকোপিন বিদ্যমান থাকায় এটি ক্যান্সার রোধ করে এবং কিডনি সুস্থ রাখে।
  • পেঁয়াজঃ পেঁয়াজ কিডনিকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখে।
  • ফুলকপিঃ ফুলকপি কিডনি ভালো রাখার উপযোগী একটি খাবার।
  • রসুনঃ কিডনি জনি তোর যেকোনো ধরনের সমস্যা দূর করে থাকে রসুন।

কিডনি রোগ প্রতিরোধে করণীয়

কিডনি রোগ নিরাময়ের জন্য বেশ কিছু বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য করতে হয়। এই রোগ প্রতিরোধে কিছু করনীয় হয়েছে যেগুলো করা অত্যন্ত জরুরী।কিডনি রোগ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।
  1. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  2. ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  3. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট চার্ট তৈরি করতে হবে।
  4. কোলেস্টেরলের বৃদ্ধি করে এমন খাবার পরিহার করতে হবে।
  5. ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে।
  6. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  7. নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
  8. অতিরিক্ত ওজন থাকলে স্বাভাবিক আনতে হবে।
  9. ফাস্টফুড, হিমায়িত খাবার বর্জন করতে হবে।
  10. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ করতে হবে।

কিডনি ভালো রাখার উপায়-শেষ কথা

শারীরিক একটি বিশেষ অঙ্গ হল কিডনি। সুস্থভাবে জীবন যাপনের জন্য যে কোন উপায়ে কিডনিকে সুস্থ রাখতেই হবে। কিছু খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করে ভালো অভ্যাসগুলো গ্রহণ করতে হবে। লাইফস্টাইলে সামান্য পরিবর্তন এবং ভালো খাদ্যাভ্যাস হতে পারে আমাদের সুস্থ থাকার অন্যতম একটি কারণ। কিডনি নিয়ে যারা নানা ধরনের অসুখে ভুগছেন তার প্রতিনিয়ত কিতনি ভালো রাখার উপায় খোঁজ করতেই থাকে।কিডনির অসুস্থতা নীরব ঘাতক। আমাদের অজান্তেই এটি অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। আর একসময় দেখা যায় নিরাশ হয়ে যাওয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না। কেননা আমরা এখন থেকেই সচেতন হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির যত্ন করি। 

আমাদের আজকের লেখাটিতে কিডনি ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে আপনাদের উদ্দেশ্য করে তথ্য প্রদান করা হয়েছে। আশা করছি আপনারা উপকৃত হবেন। এমন আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট করতে পারেন। লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করে লেখাটি এখানেই শেষ করছি।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url