যক্ষা রোগের লক্ষণ

 যক্ষা রোগের লক্ষণ যেগুলো দেখে আমরা বুঝব যে যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। যক্ষা একটি মারাত্মক রোগ তাই যক্ষা রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জেনে থাকা উচিত। আজকের এই আর্টিকেল আমরা যক্ষা রোগের লক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আপনি যদি যক্ষা রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সম্পূর্ণ আটিকের মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তাহলে চলুন দেরি না করে যক্ষা রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

পেজ সূচিপত্রঃ যক্ষা রোগের লক্ষণ - যক্ষা রোগের কারণ

যক্ষা রোগের কারণ

যক্ষা রোগের সঠিক চিকিৎসার জন্য আমাদের প্রথমে যক্ষা রোগের কারণ বের করতে হবে। আপনি যদি যক্ষা রোগকে প্রতিরোধ করতে চান যক্ষা রোগের কারণ জানা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই। বিভিন্ন কারণে যক্ষা রোগ হতে পারে নিচে যক্ষা রোগের কারণগুলো উল্লেখ করা হলো।

আরো পড়ুনঃ ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও এর প্রতিকার

১। ডায়াবেটিস রোগের মাধ্যমে রক্ষা হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা অনেক থাকে। তাই ডায়াবেটিস হলে সেটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা করতে হবে।

২। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে অর্থাৎ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করার ফলে যক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক থাকে।

৩। যক্ষা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে যক্ষা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

৪। শরীরের কোন অংশ ট্রান্সপ্লান্টের পর যেসব ওষুধ খাওয়া হয় তার কারণেও যক্ষা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৫। ক্যান্সার ও যক্ষা রোগ হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৬। অতিরিক্ত পরিমাণে ধূমপান এবং মধ্যপানের কারণে যক্ষা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

যক্ষা রোগের লক্ষণ - টিবি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

যক্ষা রোগ হলে যক্ষা রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় যেগুলো দেখে বুঝতে হবে যে যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। যক্ষা রোগকে টিবি রোগ বলা হয়। তাই আমরা টিবি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলে আলোচনা করব। আশা করি আপনি এখান থেকে টিবি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সহজেই ধারণা পেয়ে যাবেন।

১। যক্ষা রোগের অন্যতম একটি প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত পরিমাণে কাশি হওয়া।

২। কাশির সাথে বিশেষ করে কফ যুক্ত কাশি বের হওয়া। যে কাশিতে রক্ত ওঠে আসতে পারে।

৩। যক্ষা রোগের অন্যতম একটি কারণ হলো ক্ষুধা লাগার পরিমাণ কমে যাওয়া।

৪। অতিরিক্ত পরিমাণে ক্লান্ত লাগা। কোন রকমের কাজ না করেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়া।

৫। রাতের দিকে মাঝেমধ্যে ঘাম বের হওয়া।

৬। হালকা জ্বর থাকা যক্ষা রোগের অন্যতম একটি কারণ।

৭। জোরে শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে ব্যথা হওয়া যক্ষা রোগের অন্যতম একটি কারণ।

স্কিন যক্ষা রোগের লক্ষণ

স্কিন যক্ষা রোগের লক্ষণ সম্পর্কে আমাদের জেনে রাখতে হবে। আমরা জানি যে যক্ষা রোগ খুবই মারাত্মক একটি অসুখ। সঠিক সময়ের চিকিৎসা করা না হলে বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে। তাই স্কিন যক্ষা রোগের লক্ষণ গুলো জেনে রাখা জরুরী তাহলে এ সম্পর্কে আপনি আগে থেকেই সতর্ক হতে পারবেন।

  • শরীরের যে অংশে যক্ষার জীবাণু সংক্রমিত হবে সে অংশটি ফুলে উঠবে। যদি শরীরের যে কোন অংশে যক্ষা রোগের জীবাণু আক্রমণ করে তাহলে সেই জায়গা অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ফুলে ওঠে।
  • ফোলা অংশটি খুবই শক্ত হয়। ফোলার আকার বেশি হলে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • শরীরের চামড়ার অন্য যেখানেই হোক না কেন সেই অংশটি ফুলে উঠবে।

যক্ষা রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

আমরা যদি যক্ষা রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানতে পারি তাহলে খুব সহজে যক্ষা রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা করে এটি সমাধান বের করতে পারব। কয়েকটি বিশেষ বিষয়ের দিকে দৃষ্টি রাখলেই যক্ষা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় খুব সহজেই। এর সাথে সাথে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ না খেলে এই রোগ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে।

আরো পড়ুনঃ লিভারের কাজ কি ভিডিও - যকৃতের কাজ কি

১। যক্ষা প্রতিরোধে রসুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যক্ষা ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে অবরোধ সকালে দুই থেকে তিনটি কুয়া রসুন চিবিয়ে খেতে হবে।

২। যক্ষা রোগের প্রতিরোধের জন্য মধু এবং মাখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আপনি প্রতিদিন নিয়ম করে মধু এবং মাখন খেতে পারেন।

৩। খাবার খাওয়া শেষে লবঙ্গের গুড়া মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন এতে করে যক্ষা রোগের ভালো চিকিৎসা হয়। লবঙ্গের গুড়া যক্ষা রোগ থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।

৪। আমরা অনেকেই জানি যে কলা যক্ষা রোগের প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। তাই প্রতিদিন বেশি বেশি করে করা খাবেন।

৫। রসুনের রস করে ভালোভাবে এতে হালকা করে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন এই মিশ্রণটি ফুসফুসের জন্য খুবই উপকারী। এবং রক্ষা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

যক্ষা রোগের চিকিৎসা

আমরা ইতিমধ্যেই যক্ষা রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জেনেছি। এছাড়া যদি যক্ষা রোগ প্রথম পর্যায়ে থাকে তাহলে যক্ষা রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা করে এটিকে ভালো করা সম্ভব কিন্তু অনেক সময় এটি মারাত্মক আকার ধারণ করে যার ফলে যক্ষা রোগের চিকিৎসা করা অতীব ও গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের সুবিধার্থে যক্ষা রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

অ্যান্টিবায়োটিক কয়েক ধরনের জৈব রাসায়নিক ঔষধ যা অণুজীবদের নাশ করে বা বৃদ্ধিরোধ করে। সাধারানত এক এক অ্যান্টিবায়োটিক এক এক ধরনের প্রক্রিয়ায় অন্যান্য অণুজীবের বিরুদ্ধে কাজ করে। বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাক অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করে। "অ্যান্টিবায়োটিক" সাধারণভাবে ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার হয়, ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না।

তবে অ্যান্টিবায়োটিক হল আরও বড় জীবাণু-নাশক শ্রেণীর সদস্য যার মধ্যে আছে নানা প্রকার অ্যান্টি-ভাইরাল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ইত্যাদি। প্রকৃতিতেও বহু জীবাণু নাশক আছে যাদের অনেককেই এখনও ঔষধ হিসাবে পরিক্ষা করে দেখা হয়নি যেমন ব্যাক্টেরিওসিন ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা নিসৃত কাছাঁকাছি ধরনের ব্যাক্টেরিয়া ঘাতক প্রোটিন টক্সিন।

টিবি রোগের ঔষধের নাম

টিবি রোগের ঔষধের নাম সম্পর্কে অনেকেই জানতে চায়। এটি একটি মারাত্মক রোগ। সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা করা না হলে এর কারণে ক্যান্সার হয়ে মানুষের মৃত্যুবরণ হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থাতেই টিবি রোগের চিকিৎসা করানো উচিত। এ রোগ ওষুধ প্রতিরোধী। এক্সটেনসিভ ড্রাগ-রেসিসট্যান্ট টিউবারকিয়লিসিস এ রোগের চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরো পড়ুনঃ সিস্ট হলে কি সমস্যা হয়

প্রেটোমানিড নামের এই নতুন ওষুধ তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আরটিআই ইন্টারন্যাশনালের বিজ্ঞানী ডোরিস রৌজ ও তাঁর সহযোগীরা। আন্তর্জাতিক যক্ষ্মাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান টিবি অ্যালায়েন্সের সহযোগিতায় ডোরিস রৌজ ২০০০ সাল থেকে এই ওষুধ তৈরির কাজ শুরু করেন। এ বছরের ১৪ আগস্ট নতুন এই ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে এফডিএ। প্রতিষ্ঠিত ধারণা এই যে এফডিএ কড়া নিয়মনীতি মেনে ওষুধ অনুমোদন দেয়।

যক্ষা রোগের লক্ষণ - যক্ষা রোগের কারণঃ শেষ কথা

যক্ষা রোগের লক্ষণ, যক্ষা রোগের কারণ, টিবি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার, স্কিন যক্ষা রোগের লক্ষণ, টিবি রোগের ঔষধের নাম, যক্ষা রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা, যক্ষা রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রিয় বন্ধুরা আশা করি আপনারা উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট আরো পড়তে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url