করোনারি হৃদরোগের প্রধান কারণ

 আপনি জানেন কি করোনারি হৃদরোগের প্রধান কারণ কি? আমরা অনেকেই করোনারি হৃদরোগের প্রধান কারণ কি এই সম্পর্কে জানিনা। বন্ধুরা আজকে আমরা করোনারি হৃদরোগের প্রধান কারণ কি এই সম্পর্কে আলোচনা করব। আশা করছি পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

করোনারি হৃদরোগের প্রধান কারণ কি উত্তরটি জানা থাকলে আপনি সতর্ক হতে পারবেন। করোনারি হৃদরোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের পোস্টটি পড়তে থাকুন। কারণ এই সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে আক্রান্ত হতে পারেন আপনিও। উক্ত পোস্টটিতে করোনারি হৃদরোগ সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করব।

পোস্ট সূচিপত্র ঃ করোনারি হৃদরোগের প্রধান কারণ কি

করোনারি হৃদরোগের পূর্ব লক্ষণ কোনটি 

করোনারি হৃদরোগের পূর্ব লক্ষণ কোনটি বা কোনগুলো জানতে পারলে এই হৃদরোগ থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। করোনারি হৃদরোগের প্রধান লক্ষণ গুলো হচ্ছে বুকে ব্যথা এবং হার্ট অ্যাটাক। পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গেলে এই ব্যথা শুরু হয়। ব্যথার এই তীব্রতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকমের হয়ে থাকে। মনে হয় কেউ যেন হৃদপিণ্ড চেপে ধরেছে আবার বুক ভারিও মনে হয়।

এছাড়াও করোনারি হৃদরোগের নিরব কিছু লক্ষণ রয়েছে চলুন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক। প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭০০,০০০ এর চেয়েও বেশি মানুষ হার্ট অ্যাটাকে ভুগে থাকে এবং প্রায় ৪০০,০০০ মানুষ এই করোনারি হৃদরোগে মারা যায়। পূর্ব লক্ষণগুলো হচ্ছে

পুরুষাঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা

যদি পুরুষদের পুরুষাঙ্গ উত্থান অসম্ভব হয় তাহলে একটি শ্রেণী চক্রে বদ্ধ ধমনীর লক্ষণ হতে পারে এবং সেটা দেখা যায় কোন হার্ট অ্যাটাক আঘাত হানার পূর্বে। যদি আপনি এবং আপনার সঙ্গী যৌন সহবাস সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তাহলে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করুন এবং সেইসাথে ব্লু পিল গ্রহণের পূর্বে অসুস্থতার আসল কারণ এর চিকিৎসা করুন।

আরো পড়ুনঃ যক্ষা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

হাঁটার সময় পায়ের কাফে ব্যথা

করোনারি হৃদরোগ হওয়ার পূর্বে পায়ের ধমনীতে ব্লক বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে ধূমপায়ীদের মধ্যে। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে একে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এখানে ডাক্তার পায়ের পালস বা স্পন্দন পরীক্ষা করে দেখবেন পায়ের রক্ত প্রবাহ এবং রক্তচাপ ঠিক আছে কিনা। কারণ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হৃদরোগ নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম মাফিক খাদ্যাভ্যাস এবং মেডিকেল সেবা এই সবার সাথে প্রতিরোধ করতে পারে।

মাথার চুল ঝরে পড়া

৩৭,০০০ পুরুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে জানা যায় যে কোন বয়সে মাথায় টাক পড়ে যাওয়া নীরব করোনারি হার্ট ডিজিজের পূর্বাভাস। 

কানের লতি ভাঁজ

কয়েক দশক পূর্বে মেডিকেল গবেষণার প্রতিবেদনে করোনারি হার্ট অ্যাটাকের নীরব লক্ষণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে কানের লতি ভাঁজকে। কিছু মেডিকেল বিশেষজ্ঞ বিবেচনা করেন যে এয়ার ক্রিজ বা কানের লতি ভাজ হওয়া বার্ধক্যের সাধারণ লক্ষণ। পরবর্তীতে গবেষকরা কানের লতি ভাঁজ হওয়ার কারণ জানতে সিটি স্ক্যান মেথড ব্যবহার করেন। এতে তারা আবিষ্কার করেন যে কানের লতি ভাঁজ হওয়া হৃদরোগের পূর্বাভাস।

করোনারি হৃদরোগের অপর নাম কি 

বন্ধুরা প্রতিদিন করোনারি হৃদরোগে আমাদের দেশের অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। করোনারি হৃদরোগ ছাড়াও এই রোগের আরও দুটি নাম রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কি জানেন করোনারি হৃদরোগের অন্য নাম গুলো কি কি? করোনারি হৃদরোগ কে করোনারি আর্টারি ডিজিজ ও বলা হয়ে থাকে। এছাড়াও ইশকেমিক হার্ট ডিজিজও বলা হয়ে থাকে। এই রোগের চিকিৎসা সাধারণত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরাই করে থাকে। কারণ কেবলমাত্র হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এই রোগীর সঠিক অবস্থান বিবেচনা করে আদর্শ চিকিৎসা দিতে পারেন।

করোনারি হৃদরোগ কি  

বন্ধুরা আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি করোনারি হৃদরোগ কি। করোনারি হৃদরোগ সম্পর্কে যদি আপনার ধারণা না থাকে পোস্টটি পড়তে থাকুন জানতে পারবেন। করোনারি হৃদরোগ ধমনীর মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে যা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের দ্বারা তৈরি। ধমনীর ভেতরের দেয়ালে কোলেস্টেরল এবং চর্বি জমে গেলে তাকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলে। এই চর্বি ধমনীকে ঘিরে রেখে হৃদপিণ্ডে রক্ত প্রবাহে বাধা তৈরি করে।

আরো পড়ুন ঃ মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

যার ফলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ কমে যায় যেটা হৃৎপিণ্ডকে সচল রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এছাড়াও হৃদপিণ্ড অক্সিজেন এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্স পৌঁছাতে পারেনা। ফলস্বরূপ বুকে ব্যথা অনুভব হতে পারে। যদি হৃদপিন্ডের কোন পেশিতে রক্ত প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায় অথবা শরীর থেকে যে পরিমাণ শক্তি হৃদপিণ্ডে যাওয়ার কথা ছিল তা না গেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। গ্রামের তুলনায় শহরাঞ্চলে নারী পুরুষ নির্বিশেষে মৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে করোনারি হৃদরোগ।

করোনারি হৃদরোগের চিকিৎসা  

আমরা জানি যে কোন রোগের শুরুর দিকে যদি বুঝতে পারা যায় এবং সেই সাথে যদি উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়া হয় তাহলে কোন রোগ ই জটিল অবস্থা ধারণ করে না। বিপত্তি তখন বাধে, যখন আমরা ডাক্তারের কাছে যেতে দেরি করে ফেলি। এমন ভাবেই যদি করোনারি হৃদরোগের চিকিৎসা সঠিক সময়ে নিতে পারা যায় তাহলে এখান থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। যা হোক করোনারি হৃদরোগের দুইটি চিকিৎসার উপায় রয়েছে। একটি হচ্ছে CABG এবং আরেকটি হচ্ছে এনজিওপ্লাস্টি।

CABG কি 

CABG হৃদপিন্ডে রক্ত প্রবাহের জন্য একটি বিকল্প রাস্তা তৈরি করার জন্য রক্ত নালীর গ্রাফটিং। CABG করোনারি হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন একটি অস্ত্র পাচার পদ্ধতি। যেখানে শরীরের অন্য অংশ থেকে একটি রক্তনালী ব্লক করা অংশকে বাইপাস করে আক্রান্ত ধমনীতে কলম করা হয়ে থাকে। CABG এর পুনরুদ্ধারের সময় প্রায় সাত দিন বা এর বেশি হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়ে।

এই রোগের জটিলতার ওপর ভিত্তি করে অপারেশন হয় প্রায় ছয় ঘন্টা বা তার অধিক সময় ধরে। এ রোগের অসুস্থতা থেকে প্রায় একমাস বা তার বেশি সময় লাগে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে। উক্ত পদ্ধতিগুলি একজন সার্জন এর মাধ্যমে করা যেতে পারে ভারতের সেরা হার্ট সার্জারি হাসপাতালে।

এনজিওপ্লাস্টি কি

করোনারি হৃদরোগের প্রধান কারণ কি পোস্টটিতে চলুন জেনে নিই এনজিওপ্লাস্টি কি। এনজিওপ্লাস্টি একটি তুলনামূলক কম আক্রমণাত্মক চিকিৎসা বিকল্প। এর জন্য বড় কোন হাসপাতালে প্রয়োজন নেই। এটি করার জন্য রোগীকে সাধারণত একটি সাধারণ এনস্তেশিয়ার অধীনে রাখা হয় না।যদি ব্লকেজ গুলি ধমনীতে ছড়িয়ে পড়ে বা হৃৎপিণ্ডের কাছাকাছি রক্তনালী গুলির অস্বাভাবিক বা পরিবর্তিত গঠন থাকে তাহলে এনজিওপ্লাস্টির পরামর্শ দেওয়া হয় না।

করোনারি হৃদরোগ প্রতিরোধে করণীয়  

আমাদের সকলের জানা উচিত করোনারি হৃদরোগ প্রতিরোধে করণীয়। করোনারি হৃদরোগ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে যদি আপনি না জেনে থাকেন তাহলে পোস্টটি পড়তে থাকুন। প্রতিবছর আমাদের দেশে হাজার হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পূর্ব থেকেই এই রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং সতর্ক থাকাই হতে পারে এই রোগ থেকে মুক্তির উপায়। এই রোগ নানা কারণে হয়ে থাকে যেমন, অতিশয় মোটা, সিগারেট খাওয়া, ডায়াবেটিস, অস্বাভাবিক ঘনত্ব ও চাপ এছাড়াও জন্মগত কারণেও হয়ে থাকে।

এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিনি, লবণ এবং তেল খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ফল, শাকসবজি বেশি খাওয়া এবং মাংস কম খাওয়া উচিত এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের। এ রোগে আক্রান্ত রোগীরা অস্থির মেজাজি এবং মানুষের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তারা পছন্দ করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অন্যকে পরাজিত করতে ভালোবাসেন। সুতরাং এই রোগীদের মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে নিজেকে পুনর্গঠন করতে হবে এবং সহিষ্ণুতা দেখিয়ে তাদের ঠিক করতে হবে।

আরো পড়ুন ঃ ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও এর প্রতিকার

প্রিয় পাঠক আশা করছি আমাদের আজকের এই করোনারি হৃদরোগের প্রধান কারণ কি আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক ভালো লেগেছে। যদি করোনারি হৃদরোগের প্রধান কারণ কি এই আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই সবার সাথে শেয়ার করবেন। করোনারি হৃদরোগের প্রধান কারণ কি আর্টিকেল সম্পর্কিত কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। এই ধরনের আরো সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। আজকের মত বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভাল থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ। ২৩২৬১

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url