কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীল

 কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীল? এ বিষয়টি সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলে আলোচনা করা হবে। আমরা জানি যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা রয়েছে অনেক। কিন্তু আমরা কি জানি কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীল? তাই এই আর্টিকেলে কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীল? সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আপনি যদি শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকেন তাহলে কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীল? বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীল? বিষয়টি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

কন্টেন্ট সূচিপত্রঃ কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীল

কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীলঃ ভূমিকা

প্রিয় বন্ধুরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যেই জানি। কারণ আমরা জানি যে বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। আজকের এই আর্টিকেলে কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীল? এই বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করব। এছাড়া কৃষি উন্নয়ন কি?

কৃষি ও শিল্প পরস্পর নির্ভরশীল, বাংলাদেশের কৃষি সমস্যা ও সমাধান, কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন কিভাবে আমাদের সহায়তা করে? বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়নের পথে বাধা কোনটি? এ বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাদের জানাবো।

কৃষি উন্নয়ন কি?

বর্তমান সময়ে কৃষির অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। বিশেষ করে যত দিন যাচ্ছে কৃষির উন্নয়ন আরও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই কৃষি উন্নয়ন কি? এ বিষয়ে জানতে চায়। কৃষি কাজকে আগের তুলনায় সহজ করে তোলাকে কৃষি উন্নয়ন বলা হয়।

আরো পড়ুনঃ শীতকালীন সবজি চাষের সময় ও তালিকা

কৃষি কাজে ব্যবহৃত নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার, গুণগত মানসম্পন্ন ফলের বীজ উৎপাদন, বিভিন্ন ধরনের সারের মূল্য কমানো, সুষম সার প্রয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া দরকার। বেসরকারি এবং সরকারিভাবে কৃষির জন্য সুবিধা এরকম পদ্ধতি অবলম্বন করাই হলো কৃষি উন্নয়ন।

ধীরে ধীরে বাংলাদেশের কৃষি আরও বেশি উন্নত হচ্ছে। মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি প্রদানের উপকরণ। দেশের অর্থনীতিতে বহুল অংশ কৃষির উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান প্রায় ১৩.৩১ শতাংশ। আমরা জানি যে কৃষির উন্নতি মানে আমাদের বাংলাদেশের উন্নতি। আশা করি কৃষি উন্নয়ন কি? জানতে পেরেছেন।

কৃষি ও শিল্প পরস্পর নির্ভরশীল - কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীল

আমরা জানি যে কৃষি ও শিল্প পরস্পর নির্ভরশীল। কারণ কৃষি ও শিল্প দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই কৃষি ও শিল্প পরস্পর নির্ভরশীল হয়ে আমাদের বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীল এ বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করব।

বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্প পরস্পর পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিল্পই কৃষিভিত্তিক। উল্লেখযোগ্য শিল্প যেমন পাট, চা, চামড়া চিনি কাগজ প্রগতি প্রধান কাঁচামালের জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত কৃষি ছাড়া কোন শিল্প ধারণা করা যায় না। আমাদের যেসব অঞ্চলে আঞ্চলিক শিল্পায়ন ঘটে যেমন ঢাকা নারায়ণের পাট শিল্প।

চট্টগ্রাম এবং সিলেটে চা শিল্প এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গাতে চিনি শিল্প গড়ে উঠেছে। এসব শিল্পের প্রসারের ফলে কাঁচামালের চাহিদার কৃষি উৎপাদন বাড়বে। কৃষকদের আয় বাড়বে এবং জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে। আমাদের ক্ষুদ্র শিল্পের ভিত্তি হলো কৃষি। কৃষিতে উৎপাদিত বাশ-বেত ক্ষুদ্র শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কৃষির আধুনিকায়নের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারলে আমদানি ব্যয় বাঁচবে। যা শিল্পায়নের ব্যয় করা যাবে। তাই আমাদের দেশে ধীরে ধীরে কৃষি উন্নত হচ্ছে এবং বিভিন্ন রকমের উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে কৃষি কাজে। তাই উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে কৃষি ও শিল্প পরস্পর নির্ভরশীল। একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশের কৃষি সমস্যা ও সমাধান

বাংলাদেশের কৃষি সমস্যায় জর্জরিত। যদিও আগের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি অনেক উন্নত হয়েছে। তবুও বাংলাদেশের কৃষি সমস্যা ও সমাধান করার জন্য বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন রকম ভাবে ভূমিকা পালন করছে।

প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল কৃষিকাজের জন্য বিখ্যাত এবং একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। একসময় এদেশে প্রচুর আবাদি জমি ছিল। কিন্তু কালের পরিক্রমায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ আবাদি জমির পরিমাণ কমতে থাকে। কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত সমস্যা এবং আধুনিক বিশ্ব ও পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা প্রতিনিয়তই দেখা দিচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো

এভাবে যদিও কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে তারপরও তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা এবং গণমানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে প্রতিকূল আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও এ দেশে কৃষি দ্রব্যাদি উৎপাদনে বর্তমানে একটি ভারসাম্য অবস্থা বিরাজমান। ফলে বেশ কিছুদিন যাবৎ অর্থকরী বিভিন্ন ফসল বা শস্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ প্রায়ই বিশ্বের সেরা দশে অবস্থান করছে, যেটি আমাদের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক।

তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান পরামর্শ ও কৃষি সম্পর্কিত সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে সবচেয়ে নিকটতম সেবাদানকারী ব্যক্তি হলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ। এক তথ্যমতে জানা গেছে কোনো কোনো উপজেলায় কয়েকটি ব্লক মাত্র একজন উপসহকারী কর্মকর্তা দিয়ে চালানো হচ্ছে।

এই পদে সারা দেশে বহু আসন খালি থাকা সত্ত্বেও নিয়োগে জটিলতা দেখা যচ্ছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ওই পদে ১৬৫০ জনকে সুপারিশ করার পর, দেড় বছর পার হলেও আজ পর্যন্ত তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এরকম ভাবে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তার ঘাটতি থাকার কারণে কৃষক এবং এসব কর্মকর্তার মধ্যকার দূরত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে কৃষি সেবা অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এই কৃষি। হাজারো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কৃষিতে আমরা বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। তাই বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, পতিত জমি ও পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে গাছগাছালি, মৎস্য, হাঁস-মুরগি, কবুতর ও গরু-ছাগলসহ লালনপালনসহ বিভিন্ন ধরনের গাছগাছালি ও শস্য আবাদের মাধ্যমে কৃষিতে যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটাতে আমরা সক্ষম। বাংলাদেশের কৃষি সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

সংগ্রহীতঃ sonalinews.com

কৃষির ক্ষেত্র কয়টি ও কি কি

কৃষির ক্ষেত্র কয়টি ও কি কি? জানা থাকলে আমরা খুব সহজেই কৃষি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাব। বিশেষ করে কৃষকদের কৃষির ক্ষেত্র কয়টি ও কি কি? জানা উচিত।

বাংলাদেশের জনগনের একটা বিশাল অংশ তাদের জীবনধারণের জন্য কৃষির উপর নির্ভর করে। যদিও ধান ও পাট এখানকার প্রধান ফসল তা সত্ত্বেও গমের বৃহত্তর গুরুত্ব রয়েছে। উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে চায়ের চাষ হয়ে থাকে। উর্বর জমি ও পানির প্রাচুর্যতার কারণে বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে বছরে তিন বার ধান উথপাদন ও চাষাবাদ হয়ে থাকে।

প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও অনেকগুলো কারণে বাংলাদেশের শ্রমনির্ভর কৃষিতে খাদ্য উৎপাদনে উন্নতির মাত্রা অর্জিত হয়েছে। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ, সারের সর্বোত্তম ব্যবহার ও সরবরাহ এবং গ্রামীণ মানুষকে ঋণের আওতায় আনা।

কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন কিভাবে আমাদের সহায়তা করে

কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন কিভাবে আমাদের সহায়তা করে? এ বিষয় সম্পর্কে আমরা এখন জানব। কৃষিতে বিভিন্ন রকম প্রযুক্তি উদ্ভাবন হওয়ার পর থেকে কৃষি কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে। কৃষি কাজে আমাদের সহজ করার জন্য সাধারণত কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়। তাহলে চলুন কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন কিভাবে আমাদের সহায়তা করে? বিষয়টি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

কৃষিতে যান্ত্রিক প্রযুক্তি

  • বর্তমান সময়ে কৃষিতে চাষাবাদের জন্য মানুষ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। যার ফলে আমাদের সময় এবং পরিশ্রম অনেকটাই কমে গিয়েছে।
  • বর্তমানে ট্রাক্টর, সিএসপাম এবং ফসল মারাই যন্ত্রের মত আধুনিক যন্ত্র মানুষের কাজকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে।
  • বিভিন্ন রকম কৃষি প্রযুক্তির সাহায্যে এখন অল্প সময়ে আগের অনেক দিনের কাজ করা যায়। যার ফলে সময় এবং শ্রম দুটোই কমে গিয়েছে।
  • বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়নের পথে বাধা কোনটি?

    কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীল? এ বিষয়টি সম্পর্কে জেনে এসেছি। এছাড়া বাংলাদেশের কৃষি সম্পর্কে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনেছি। এখন আমরা বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়নের পথে বাধা কোনটি? এই বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করব। নিচে আপনাদের জন্য বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়নের পথে বাধা কোনটি? বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

    আরো পড়ুনঃ মেয়েদের ঘরে বসে আয় করার উপায়

    বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় খাত হচ্ছে কৃষি। ২০১৮ সালের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যমতে এটি মোট শ্রমশক্তির ৪০.৬ ভাগ যোগান দিয়ে থাকে এবং দেশের জিডিপিতে এর অবদান ১৪.১০ শতাংশ। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র দূরীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় এই খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    ১৯৯৯ সালে গমের উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন। বাড়তি জনসংখ্যার চাপ উৎপাদনের ধারাকে ক্রমাগত বাঁধাগ্রস্ত করছে যা খাদ্য স্বল্পতা তৈরীর জন্য দায়ী, গম যার অন্যতম। বৈদেশিক সাহায্য ও বাণিজ্যিক আমদানি এই ঘাটতি পূরণ করছে। বেকারত্ব একটি প্রবল সমস্যা এবং বাংলাদেশের কৃষিখাতে উদ্বেগের অন্যতম একটি কারণ।

    বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ চাল উৎপাদক দেশ। গম বাংলাদেশের চিরায়ত কোন ফসল নয় এবং ১৯৮০ এর শেষের দিক থেকে গ্রামীণ এলাকায় অল্প পরিসরে এর উৎপাদন শুরু হয়। ষাট এবং সত্তরের দশকে এর চাহিদা বাড়তে থাকে কেননা সেসময় বৈদিশিক সাহায্যের অন্যতম উপকরণ ছিল গম। আশির দশকের প্রথমার্ধে দেশীয় গমের বাৎসরিক উৎপাদন ১ মিলিয়ন টন ছাড়িয়ে যায়

    তথ্যঃ উইকিপিডিয়া

    কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীলঃ উপসংহার

    কৃষি কিভাবে শিল্পের উপর নির্ভরশীল? বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়নের পথে বাধা কোনটি? কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন কিভাবে আমাদের সহায়তা করে? কৃষির ক্ষেত্র কয়টি ও কি কি? কৃষি ও শিল্প পরস্পর নির্ভরশীল এ বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রিয় বন্ধুরা আশা করি আপনারা জানতে পেরেছেন। আপনাকে বিষয়গুলো জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। আপনার এবং আপনার পরিবারের সুস্থতা কামনা করে আজকের মত এখানে শেষ করছি ধন্যবাদ। 

    Next Post Previous Post
    No Comment
    Add Comment
    comment url