পেটের মেদ কমানোর উপায়

আপনি কি পেটের মেদ কমানোর উপায় খুঁজছেন? তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন। বন্ধুরা আজকে আমরা আলোচনা করব অপ্রত্যাশিতভাবে হওয়া পেটের মেদ কমানোর উপায় নিয়ে। এটি অচিরেই শারীরিক সৌন্দর্যকে একেবারেই নষ্ট করে দেয়। 


আপনি যতই স্মার্ট হোন না কেন যদি পেটে মেদ জমে তাহলে সব শেষ। আপনার সৌন্দর্যের বিঘ্ন ঘটানোর জন্য এই একটি কারণেই যথেষ্ট। এছাড়াও পেটের চর্বি থাকলে অল্প বয়সের ব্যক্তিদের কেউ বয়স্ক দেখায়। যৌবনের সৌন্দর্যের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা হলো পেটের মেদ।

প্রিয় পাঠক বৃন্দ, আমাদের আজকের আলোচনায় থাকছে পেটের মেদ কেন হয়? কিভাবে এবং কত উপায়ে মেদ কমানো যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত। তাহলে চলুন আর দেরি না করে পেটের মেদ কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। বিস্তারিত জানতে হলে আর্টিকেলটির শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকুন।

পেজ সূচিপত্রঃ

পেটের মেদ কেন হয়?

পেটের মেদ কমানোর উপায় জানার আগে অবশ্যই জানা উচিত যে পেটের মেদ কেন হয়? কারণ সমস্যার উৎপত্তি জেনে এরপর তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। বিভিন্ন কারণে পেটে মেদ জমে থাকে। যেমন-
  1. খাদ্যাভ্যাসঃ সর্বপ্রথম পেটের চর্বি বাড়ার কারণ হলো অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস। অনেকেই আছে সারাদিন একের পর এক খাবার খেতেই থাকে। অতিরিক্ত খাওয়া চর্বি জমার অন্যতম কারণ।
  2. বেশি কার্বোহাইড্রেট গ্রহণঃ প্রতিটি মানুষের পেটে মেদ জমার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা। কার্বোহাইড্রেট বলতে আমরা ভাত, রুটি ও আলু কে বুঝে থাকি। এগুলো বেশি খাওয়ার কারণে শরীর ভারী হয়ে যায় এবং অল্প অল্প করে পেটে চর্বি জমতে শুরু করে এবং একসময় আমাদের বেখেয়ালে বড় আকৃতি ধারণ করে।
  3. ব্যায়াম না করাঃ প্রতিটি মানুষকে দিনে অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট হাঁটা উচিত। শরীরকে একঘেয়েমি ব্যায়াম না করে আরামে রাখলে মেদ বাড়ে। কারণ আমাদের শরীর নিয়মিত রেস্টে থাকছে কিন্তু খাওয়া একবারে বন্ধ নয়। এক্ষেত্রে ক্যালরি বেড়েই চলে ঝরে যাওয়ার কোন সুযোগ থাকে না।
  4. বংশগতঃ পেটের মেদ হওয়ার আরেকটি কারণ হলো বংশগত প্রভাব। অনেকেরই দেখা যায় বংশগতভাবে পেটের মেদ হয়ে থাকে।
  5. কম ঘুমানোঃ দৈনিক একটি মানুষকে অন্তত আট ঘন্টা ঘুমাতে হয়। জেগে থাকলে দেখা যায় কিছুক্ষণ পর পর খিদে লাগে। আর বেশি খাওয়ার কারণে চর্বি জমে।
  6. অ্যালকোহল গ্রহণঃ অনেকেই দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের নেশাদ্রব্য মদ অর্থাৎ অ্যালকোহল গ্রহণ করে। এটি শরীরে খুব দ্রুত এবং অধিক পরিমাণে চর্বি জমায়।
আরো পড়ুনঃ মরিয়ম খেজুরের উপকারিতা এবং চেনার উপায়

পেটের মেদ কমানোর খাবার তালিকা

পেটের মেদ কমানোর উপায় এর মধ্যে অন্যতম এবং সর্বপ্রথম ধাপ হলো পেটের মেদ কমানোর খাবার তালিকা তৈরি করা। সব ধরনের খাবার খেলে শরীরে চর্বি হবেই। তাই একটি নির্দিষ্ট খাবার তালিকা অনুযায়ী চললে আশা করা যায় মেদ নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। পেটের মেদ কমানোর জন্য একটি আদর্শ খাবার তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো।
  • বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি।
  • প্রোটিন জাতীয় খাবার।
  • পানি।
  • শসা।
  • গ্রিন টি।
  • বিভিন্ন ধরনের বাদাম।
  • সামুদ্রিক মাছ।
  • ফলমূল।
  • এভোক্যাডো।
  • আঁশযুক্ত খাবার।
  • খেজুর।
  • লাল মাংস।
  • বেরি ফল।
পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম

পেটের মেদ কমানোর উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম আরেকটি হলো ব্যায়াম করা। ব্যায়াম করার মাধ্যমে শুধু যে শরীরের মেদ কমে এমনটি নয়। শরীর সুস্থ থাকে। নির্দিষ্ট কিছু পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম রয়েছে। এগুলো ব্যায়াম করলে চর্বি কমানোর সহজ হয়ে যায়। তাই নিয়মিত এবং রুটিন মাফিক খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি মেদ কমানোর উদ্দেশ্যে ব্যায়াম করা উচিত। এর মাধ্যমে একটি ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে আশা করা যায়।

পেটের মেদ কমানোর ঔষধ

মেদ কমানোর বিভিন্ন ধরনের উপায় রয়েছে। মেদ কমাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন কোম্পানির ঔষধ। এ সকল ঔষধ সাধারণত চিকিৎসকেরা দিয়ে থাকে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে। পেটের মেদ কমানোর ঔষধ যেগুলো ভালো পরিচিত তা নিচে দেয়া হলো-
  1. স্লিম ফাস্ট।
  2. অলিস্টেড।
  3. অরনিকেল।
  4. ডায়েটিল।
  5. লোয়েট।
  6. ফ্যাট রিডিউসার।
  7. লো ফ্যাট।

মেয়েদের পেটের মেদ কমানোর উপায়

পেটের মেদ খুবই বিব্রতকর একটি অবস্থা তৈরি করে। আরো যদি সেটি হয় মেয়েদের ক্ষেত্রে তাহলে তো কোন কথাই নেই। মেয়েরা স্বভাবগতভাবেই সর্বদা সৌন্দর্য সচেতন থাকার চেষ্টা করে। পেটের মেদ কমানোর উপায় আলোচনায় এখন আমরা জানবো মেয়েদের পেটের মেদ কমানোর উপায় সম্পর্কে। মেয়েরা যে সকল উপায় অবলম্বন করতে পারে মেদ কমানোর জন্য সেগুলো হলো-

  • সঠিক সময়ে খাওয়া-দাওয়া করা।
  • জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা।
  • নিয়মিত আট ঘন্টা ঘুমানো।
  • জিম করা বা ব্যায়াম করা।
  • স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট খাবার গ্রহণ করা।
  • ঘন ঘন খাবারের অভ্যাস ত্যাগ করা।
  • রাতে হালকা কাপড় পরিধান করা। কারণ ঘুমানোর সময়  উষ্ণতা তৈরি করার জন্য শরীর পরিশ্রম করে যার মাধ্যমে চর্বি ঝরে যায়।
ব্যায়াম ছাড়া পেটের মেদ কমানোর উপায়

পেটের মেদ কমানোর উপায় বলতে যে শুধু ব্যায়াম তা নয়। ব্যায়াম করা ছাড়াও বিভিন্ন উপায়ে মেদ কমানো যেতে পারে। ব্যায়াম ছাড়া পেটের মেদ কমানোর উপায় নিশ্চয়ই সকলের জানা নেই? চলুন তাহলে একটু জেনে নেয়া যাক। নিম্নোক্ত উপায় গুলো মেনে ব্যায়াম ছাড়াই অনায়াসে পেটের মেদ কমানো সম্ভব।

  • চিনি খাওয়া বাদ দিয়ে দিন।
  • দৈনিক কিছুটা সময় হাঁটাহাঁটি করুন।
  • নিয়মিত খাবারের সালাদ রাখুন।
  • প্রতিদিন সকালে গরম পানি এবং মধু মিশ্রিত করে এক গ্লাস পান করুন।
  • সাদা চাল বা রুটির পরিবর্তে লাল চাল এবং রুটি খাওয়া শুরু করুন।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • দারচিনি, আদা এবং গোলমরিচ খাবারের অথবা চা চা হিসেবে গ্রহণ করুন। এগুলো মেদ কমাতে সহায়ক।
  • বেশি পরিমাণে শাকসবজি খান।
  • বেশি করে ফলমূল খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • আঁশযুক্ত খাবার অধিক পরিমাণে খাবেন। কারণ আঁশযুক্ত খাবার খেলে লম্বা সময় ধরে না খেয়ে থাকা যায়।
  • প্রতিবেলার খাবার সময়মতো গ্রহণ করার চেষ্টা করুন।
  • মানসিক চাপ নেয়ার চেষ্টা করবেন না।
  • খুব বেশি ঘুমানো এবং আরাম করা থেকে বিরত থাকুন।
  • ঘরের কাজ নিজে করার চেষ্টা করুন। এতে চর্বি কমার পাশাপাশি সুস্থ থাকবেন।
  • নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুন। এটিও ব্যায়ামের মতই কাজ করে।
পেটের মেদ কমাতে লেবু

পেটের মেদ কমানোর উপায় সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা হল। এখন তাহলে একটু জেনে নেয়া যাক পেটের মেদ কমাতে লেবু কি পরিমাণ কার্যকর।

মেদ কমানোর ক্ষেত্রে লেবু বিশেষ ভূমিকা রাখে। গরম পানির সাথে লেবু পান করলে চর্বি ঝরতে সাহায্য করে। লেবুর রস ,গরম পানি এবং মধু একত্রে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও শুধুমাত্র লেবুর রস করে দৈনিক খেলে শরীরের অবাঞ্ছিত চর্বি ঝরে পড়ে। এক কথায় চর্বি গলাতে লেবুর কার্যকারিতার কোন শেষ নেই এটি মানতেই হবে।

পেটের মেদ কমানোর উপায়-শেষ কথা

পেটের মেদ বা চর্বি কখনোই কারো কাঙ্খিত হতে পারে না। যারা এই সমস্যায় ভুগছেন তারা প্রতিনিয়তই এই সমস্যাটির সমাধান খুঁজে। সমস্যা যেহেতু আমাদের অগোছালো জীবন যাপন থেকে শুরু হয়, সমাধান কিন্তু আমাদের কাছেই রয়েছে।

পাঠক বৃন্দ, পেটের মেদ কমানোর উপায় আলোচনায় আমরা আপনাদের সঠিক তথ্য দেয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আপনারা উপকৃত হবেন। এমন আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করবেন। আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url