সুগার হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে

 আপনি কি জানেন সুগার হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে? আমরা অনেকেই সুগার হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে বা কি কি খাওয়া যাবেনা ইত্যাদি সম্পর্কে জানিনা। আমাদের আজকের সুগার হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে এই আর্টিকেলটিতে এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।


রক্তে সুগার কম বা বেশি হওয়া দুটোই খারাপ। এবং এর কারণে শারীরিকভাবে নানা জটিলতার শিকার হতে হয়। তাই আমাদের সুগার হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে বা কি কি যাবে না ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। বিস্তারিত জানতে আমাদের পোস্টটি করতে থাকুন।

পোস্ট সূচিপত্র ঃ সুগার হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে

সুগার হলে কি কি খাওয়া যাবে 

সুগার হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে বা সুগার হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে না আমরা অনেকেই জানিনা। বন্ধুরা আমরা জানি অগ্নাশয় থেকে তৈরি হয় শরীরের প্রয়োজনীয় ইনসুলিন হরমোন। ইনসুলিন যদি ঠিক মত কাজ না করে তাহলে রক্তে অতিরিক্ত শর্করা জমতে থাকে। যার কারণে ব্লাড সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়। 

সুগার হলে নানান ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কঠিন নিয়ম মানতে হয়। শরীরে সুগার বেড়ে গেলে এই  সবজি এবং ফল গুলো খাবেন এতে সারা বছরেও রক্তে শর্করা বাড়বে না। যেমন মটরশুটি, ফুলকপি, ব্রকলি, পালং শাক, বিটরুট ইত্যাদি। সবুজ শাকসবজি এবং অ-স্টার্চ যুক্ত শাকসবজি রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। ভাত, আলু এবং রুটিতে স্টার্চ থাকে এবং শরীরের রক্তের শর্করার মাত্রা ব্যাহত করতে পারে। ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসবজি রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন ঃ শরীর শুকিয়ে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার

আসুন এবারে আমরা জেনে নিই সুগার হলে কি কি ফল খেতে পারবেন বা কি কি ফল খাওয়া নিরাপদ।আমরা অনেকেই এই সম্পর্কে জানিনা। না জানার কারণে আমরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়ি।সাধারণত সুগার হলে আপনারা স্ট্রবেরি, আলুবোখারা, নাশপাতি, কমলা, পিচ ইত্যাদি খেতে পারেন। এই ফলগুলো সুগার রোগীদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে গ্লাইসেমিক সূচক কম থাকে যার কারণে ফলগুলি অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট আইটেম যেমন রুটির তুলনায় রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে না।এছাড়াও এই ফলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং জল পাওয়া যায় যেটা খেলে শরীরের নানা উপকার সহ পেটের অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সুগার হলে কি করতে হবে  

আপনি কি জানেন সুগার হলে কি করতে হবে? রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে কি কি সমস্যা দেখা দেয় তার সম্পর্কে আমরা কম বেশি সবাই জানি। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হচ্ছে নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া বা শরীরচর্চা করলে এটি নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব কিন্তু পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়। 

সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা খুব অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে, দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হয়, হাত পায়ের আঙুল অবশ বোধ করে, ডায়েট বা ব্যায়াম না করেই শরীরের ওজন হুট করেই কমতে থাকে। এখান থেকে বাঁচতে দৈনন্দিন জীবন যাপনে কিছুটা পরিবর্তন আনলে ডায়াবেটিসের মত কঠিন সমস্যার জটিলতা কিছুটা হলেও এড়ানো সম্ভব। উক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 

সুগার হলে কি কি খাওয়া যাবেনা

সুগার হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে, বা কি কি সবজি আপনার শরীরের জন্য ভালো হবে ইতিপূর্বে আমরা আলোচনা করেছি। কিন্তু বন্ধুরা সুগার হলে কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো খাওয়া যাবে না। আমরা জানি ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে প্রথমেই ক্যালরি যুক্ত খাবার খেতে বারণ করা হয়। হাভার্ড হেলথের সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলেছে যে, এমন কিছু খাবার রয়েছে যা ডায়াবেটিস রোগীদের শারীরিক অবস্থা আরো বেশি জটিল করে তুলতে পারে। অতএব সেগুলো প্রথম থেকে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। 

আরো পড়ুন ঃ সকালে গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

সুগার হলে কার্বোহাইড্রেট কম খেতে হবে। শরীরের জন্য অবশ্যই কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন তবে খেয়াল রাখতে হবে এটা যেন অতিরিক্ত গ্রহণ না হয়ে যায়। সবুজ শাকসবজি, ফল, লেবু, দুগ্ধজাত খাবার থেকে যে পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট আসে সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে বিষয়টা তেমন নয়। তবে ভাজাপোড়া, মিষ্টি খাবার, ফাস্টফুড কিংবা অতিরিক্ত নুন রয়েছে যেসব খাবারে সেখান থেকেই অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট আমাদের শরীর গ্রহণ করে তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই উচিত। এছাড়াও চিনি জাতীয় খাবার যেমন কোল্ড ড্রিংক, মিষ্টি, সেক ইত্যাদি খাবার গুলো এড়িয়ে চলতে হবে এবং নুন জাতীয় খাবার কম খেতে হবে।

ডায়াবেটিসে মুড়ি খাওয়া যাবে কি

আমাদের অনেকের প্রশ্ন ডায়াবেটিসে মুড়ি খাওয়া যাবে কি? এক কথায় বলতে গেলে মুড়ি খেলে ব্লাড সুগার লেভেল সহজেই বেড়ে যাবে। এছাড়াও গ্লাইসোমিক ইনডেক্স ও বেশি। এই কারণে নিয়মিত মুড়ি খেলে ডায়াবেটিস কমবে না বরং বেড়ে যাবে। 

আমাদের অনেকের প্রশ্ন থাকে মুড়ি কি ডায়াবেটিস কমায়? যেহেতু মুড়িতে গ্লাইসোমিক ইনডেক্স বেশি থাকে সে কারণে বলা যায় মুড়ি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। অর্থাৎ মুড়ি কোনমতেই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো খাবার নয়। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে মুড়ির কোনো ভূমিকা নেই। 

সুগার রোগীর খাদ্য তালিকা  

এই মর্মে আমরা আলোচনা করব সুগার রোগীর খাদ্য তালিকা। রক্তে সুগার বেশি হলেই যে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু খাবার খেতে হবে কিংবা খাবার খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে বিষয়টা আসলে সেরকম নয়। আপনি চাইলে বিভিন্ন রকমের খাবার খেতে পারবেন কিন্তু অবশ্যই পরিণত পরিমাণে। এই খাবার গ্রহণ আপনার বয়স, লিঙ্গ, শারীরিক পরিশ্রম ইত্যাদি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।
ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার তালিকায় যেসব খাবার থাকে সেগুলো হচ্ছে, ফলমূল, শাকসবজি। শ্বেতসার সমৃদ্ধ খাবার যেমন, বাদামী বা লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি ইত্যাদি। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মাছ, মাছ মাংস, ডাল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম। এছাড়াও রয়েছে দুগ্ধ জাত খাবার যেমন ছানা, দই, পনির। বিভিন্ন ধরনের তেল, ঘি, মাখন ইত্যাদি।

সুগার হলে কি খেলে ভালো হবে  

আমরা অনেকেই জানতে চাই সুগার হলে কি খেলে ভালো হবে? আসলে ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যার কোন চিকিৎসা নেই। এটি পুরোপুরি সমাধান না হলেও একে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব খাদ্যাভ্যাস এবং চলাফেরার মাধ্যমে। অর্থাৎ খাওয়া দাওয়ার মাধ্যমে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। 

আরো পড়ুন পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায়

এই ক্ষেত্রে আপনি পানীয়র মধ্যে খেতে পারেন শসার রস, ভেষজ চা, চিনি ছাড়া লেবু জল, নারকেলের পানি ইত্যাদি। সুগার হলে খাবার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আপনি সবজির মধ্যে খেতে পারেন পালংশাক, ব্রকলি, মটরশুঁটি, ফুলকপি ইত্যাদি। এছাড়াও ফলের মধ্যে খেতে পারেন নাশপাতি, কমলা, স্ট্রবেরি ইত্যাদি।

প্রিয় পাঠক আশা করছি আমাদের আজকের এই সুগার হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। অন্যদের জানানোর সুবিধার্থে সুগার হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে আর্টিকেলটি শেয়ার করুন। সুগার হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে এই ধরনের অনেক ইনফরমেশন মূলক আর্টিকেল আমাদের ওয়েব সাইটে লেখা হয়। বিস্তারিত জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। আজকের মত বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ। ২৩২৬১

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url